২ দফায় ৬ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে পিডি হওয়ার অভিযোগ:
২০২৬ সালের জুন ও জুলাইয়ে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে যে, তোফায়েল আহমেদ প্রায় ৬ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে আইইউজিআইপি প্রকল্পের পরিচালক হয়েছেন।
একটি প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ২০২৫ সালে তাঁকে পিডি করার প্রথম উদ্যোগে দাতা সংস্থার আপত্তি হয়েছিল এবং পরে আগের পিডি আব্দুল বারেক দায়িত্বে ফিরে যান। পরবর্তীতে তোফায়েল আহমেদ আবার পিডি হন। তবে ৬ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে কোনো আদালতের রায়, দুদকের আনুষ্ঠানিক মামলা বা সরকারি তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায়নি।
৩. নওগাঁয় দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের অভিযোগ:
তোফায়েল আহমেদ আগে নওগাঁ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। নওগাঁর তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
তবে এ জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথম আলোকে তোফায়েল আহমেদ নিজেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তিনি বলেন, দরপত্র অনলাইনে হওয়ায় নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই এবং তিনি সাধন মজুমদারের কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেননি।
২০২৬ সালের আইএমইডি-ভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আইইউজিআইপি প্রকল্পে কয়েকটি গুরুতর বিষয় উঠে এসেছে:
প্রকল্পের ডিপিপিতে সড়ক ও নালা নির্মাণের পরিমাণ নিয়ে অসঙ্গতি;
নতুন রাস্তা করার পর আবার সেই রাস্তা কেটে নালা করার আয়োজন;
বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে ডাস্টবিন কেনার অভিযোগ;
যোগ্য/সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে কাজ দেওয়ার অভিযোগ;
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করা ঠিকাদারের জামানত বাজেয়াপ্ত না করার অভিযোগ;
কিছু কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন;
প্রকল্পে পরামর্শক ও বিভিন্ন ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে আইএমইডির প্রশ্ন।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, তোফায়েল আহমেদ নিজেই বলেছেন যে- অডিট আপত্তিগুলোর জবাব দেওয়া হয়েছে ।
৫. সাংবাদিককে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ
সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে আরও গুরুতর একটি অভিযোগ এসেছে। প্রতিবেদকের দাবি অনুযায়ী, প্রকল্পের উপপরিচালক ইমতিয়াজ জহিরুল হক তাঁকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং বলেন, এটি প্রকল্প পরিচালক তোফায়েল আহমেদ দিতে বলেছেন।
এ কথোপকথনের রেকর্ড সংরক্ষিত আছে বলে প্রতিবেদক দাবি করেছেন। তবে এটিও এখন পর্যন্ত অভিযোগ, এবং কোনো স্বাধীন তদন্তে এর সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
৬. রাস্তার কাজে ৩০% কমিশনের অভিযোগ
একটি জুন ২০২৬-এর প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ৮৮টি পৌরসভার সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত মানের চেয়ে কম পুরুত্বে ঢালাই এবং রড ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এর বিনিময়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
কিন্তু এই দাবিটির ক্ষেত্রেও সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় পাওয়া যায়নি।
তোফায়েল আহমেদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান – আমার দীর্ঘ কর্মময় জীবনে আমি কোন অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নই। এ পর্যন্ত যত অভিযোগ বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনা হয়েছে তার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। আরো বলেন, একটি মহল সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে আমার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে এইসব কল্প-কাহিনী ছড়াচ্ছে যার কোন সত্যতা নেই। এমনকি আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত কোন অভিযোগেরই প্রমাণ করতে পারে নাই। অতএব, এসব কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং এসব সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।









