সোমবার | ১৫ জুন, ২০২৬ | ১ আষাঢ়, ১৪৩৩

খাদ্য নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

খাদ্য নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন ‘Repurposing Agricultural Public Spending for Quality Growth and Jobs in Bangladesh’s Agrifood System’ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব খাতে সরকারের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থ প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কতটা অবদান রাখছে, সে বিষয়ে গবেষণা ও মূল্যায়নকে সরকার ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে। তথ্যভিত্তিক গবেষণা ও সুপারিশ নীতিনির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক ও টেকসই করতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পাটবীজ, পেঁয়াজ বীজ ও আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাটির অম্লতা কমানো এবং সারের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডিজেল ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো এবং আমদানি-নির্ভরতা কমাতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তি সরবরাহ, ফল ও সবজি সংরক্ষণে মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, বস্তায় আদা চাষ সম্প্রসারণ, চুক্তিভিত্তিক পাটবীজ উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষক কার্ড ব্যবস্থাপনা জোরদার, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

তিনি আরও বলেন, আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি বাড়িয়ে কৃষিকে আরও বাণিজ্যিক ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উচ্চমূল্যের ও রপ্তানিমুখী ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্যাকিং হাউস, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, কোয়ারেন্টাইন সুবিধা এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, চাহিদার সঠিক তথ্যের অভাবে কৃষক অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী দেড় বছরের মধ্যে দেশ পেঁয়াজ আমদানি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। একইভাবে আগামী তিন বছরের মধ্যে আদা ও রসুন উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পাট ও পেঁয়াজ বীজের আমদানিনির্ভরতাও পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা হবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংক, সানেম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি ছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে কৃষিমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD