ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের দুই বারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী ইন্তেকাল করেছেন।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৩ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনৈতিক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে এবং এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
গত ২১ জুলাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে ২৩ দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
জানা যায়, হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত হয়ে ১৯৯৬ সালে ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে আবারও সাংসদ নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন প্রখ্যাত আলেম ও সমাজসেবক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ছাত্র জীবনে তিনি পাকিস্তান থেকে কোরআনের হাফেজ হন। এরপর মদীনা ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি আরবি শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, আরবি, উর্দু ও ফারসি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন এবং পবিত্র কোরআনের হাফেজ ছিলেন।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাজিল এবং সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে তাফসীর বিভাগে এম.এম. ডিগ্রি লাভ করেন।
এছাড়াও তিনি বিদেশ থেকে দাওরায়ে হাদীস (মুহাদ্দিস) বিষয়ে ডাবল ডিগ্রি অর্জন করে তার প্রজ্ঞা ও মেধার পরিচয় দেন।
তার রাজনৈতিক জীবন ছিল সাফল্য ও জনসেবায় ভরপুর। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তিনি ত্রিশাল থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সালে এমপি থাকাকালীন তিনি ত্রিশালের রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করে স্থানীয় অবকাঠামোর চিত্র পাল্টে দেন। এই ৫ বছরের শাসনামলে তিনি ‘উন্নয়নের রূপকার’ হিসেবে জনগণের কাছে পরিচিতি লাভ করেন।
বুধবার (১৩ই) বিকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চকপাঁচপাড়া মাদরাসা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।









