বান্দরবানের থানচি উপজেলার নাফাখুম ও অমিয়াখুম এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে ৭০ জন নিরাপদে থানচি সদরে ফিরেছেন। অমিয়াখুমে আটকে থাকা আরও ১৮ জন মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে থানচির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে গাইডদের একটি দল পদ্মমুখ এলাকায় অবস্থান করছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে সাঙ্গু নদীসহ পাহাড়ি ছড়া ও ঝরনার পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েন। তবে মঙ্গলবার থেকে সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। লামা–আলীকদম সড়ক থেকেও পানি নেমে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল বলেন, রেমাক্রী এলাকায় আটকে পড়া ৭০ জন পর্যটককে লাইফ জ্যাকেটের সহায়তায় নিরাপদে থানচি সদরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অমিয়াখুম থেকে ফিরতে থাকা ১৮ জনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাইডদের একটি দল পদ্মমুখ এলাকায় অবস্থান করছে।
তিন্দু ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মংপ্রু অং মারমা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় তার শিলাগিরি রিসোর্টে আশ্রয় নেওয়া ৭০ জন পর্যটকের জন্য বিনা মূল্যে থাকার ব্যবস্থা এবং স্বল্পমূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। তারা মঙ্গলবার নিরাপদে থানচি সদরে ফিরে গেছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলা প্রশাসন সোমবার রাত থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। এতে হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক পর্যটক অগ্রিম বুকিং বাতিল করছেন, ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বান্দরবান আবহাওয়া অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানান, সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা অতিভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে পড়ে।
জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ২২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা সদরসহ রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সচল রাখতে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী কাজ করছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।









