কালুখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মিজানুর রহমান নতুন প্রশাসক হিসেবে বুধবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
জানা গেছে, গত ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মজনু আত্মগোপনে চলে যান। এরপর ইউপি সদস্য মদন কুমার প্রামাণিক প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে চলতি বছরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্তে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাল চুরির ঘটনা প্রমাণিত হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ৫ই জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪) ধারার (খ) ও (ঘ) উপধারা অনুযায়ী তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং একই আইনের ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
প্যানেল চেয়ারম্যান সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়ার পর মদাপুর ইউনিয়ন পরিষদে স্থবিরতা নেমে আসে এবং দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ নানা ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নাগরিক সেবা পুনরুজ্জীবিত করতে অবশেষে উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রশাসক নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান খান, আজমির হোসেন,বিএনপি নেতা শাহজাহান আলী মাস্টার ও জিয়াউর রহমান জিয়া,উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবাইদুল কবির কুন্নু, সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেন, মদাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হালিম সরদার, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহান মোল্লা, দৈনিক চিত্রের রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি আবু সাঈদ, ইউনিয়ন পরিষদের সকল ইউপি সদস্যবৃন্দ।
দায়িত্ব গ্রহণ শেষে নবনিযুক্ত প্রশাসক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ হলো সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার মূল কেন্দ্র। নানা কারণে এতদিন এখানকার নাগরিক সেবা কিছুটা থমকে ছিল। আমার প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হবে মদাপুর ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা পান। সরকারি সকল সুবিধা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে প্রকৃত ও দুস্থ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে গতিশীলতা ফেরাতে আমি পরিষদ সদস্য ও স্থানীয় জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, নতুন প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার ফলে পরিষদের স্থগিত থাকা সব ধরনের প্রশাসনিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে দ্রুত গতি ফিরে পাবে।









