বাংলাদেশে অতি-প্রক্রিয়াজাত (Ultra-Processed) খাদ্য গ্রহণের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে খাদ্যপণ্যের প্যাকেটের সামনের অংশে সহজবোধ্য স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা বা ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (FOPL) চালুর মাধ্যমে ভোক্তাদের সচেতন করা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে “বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল): প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়” শীর্ষক দুই দিনব্যাপী (১৪-১৫ জুলাই) সাংবাদিক কর্মশালার সমাপনী দিনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) কর্মশালার আয়োজন করে। এতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের ২৫ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, খাদ্যপণ্যের প্যাকেটের সামনে স্পষ্ট সতর্কবার্তা থাকলে ভোক্তারা এক নজরেই বুঝতে পারবেন কোনো পণ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে কি না। এতে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য বেছে নেওয়া সহজ হবে এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এজন্য জনস্বার্থে এফওপিএল সংক্রান্ত খসড়া প্রবিধানমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
কর্মশালায় জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে, যার মধ্যে ১৯ শতাংশই অকাল মৃত্যু। অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের অতিরিক্ত গ্রহণ এ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের পেছনে থাকা জটিল পুষ্টি তথ্য সাধারণ ভোক্তার জন্য বোঝা কঠিন হওয়ায় কার্যকর সতর্কীকরণ লেবেল চালুর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, “বাধ্যতামূলকভাবে এফওপিএল চালুর জন্য দ্রুতই প্রবিধানমালার খসড়া চূড়ান্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সতর্কীকরণভিত্তিক এফওপিএল বাস্তবায়নের ফলে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ কমেছে। বাংলাদেশেও এটি দ্রুত চালু করা প্রয়োজন।
জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, খাদ্যপণ্যের প্যাকেটের সামনে স্পষ্ট স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ভোক্তাকে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে গণমাধ্যমে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ নীতিনির্ধারকদের ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)-এর কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন প্রজ্ঞার কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার ও প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা।









