দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট যখন চরমে, তখন এক অদ্ভুত বৈপরীত্য চোখে পড়ছে—পেট্রোল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ, অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহজেই মিলছে সেই তেল, তাও দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে।
রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি পাম্পের সামনে। অনেকেই ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও ফিরছেন খালি হাতে।
কিন্তু ঠিক একই সময়ে, ফেসবুক ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বোতলভর্তি পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লিটার দরে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সরবরাহ ঘাটতির ফল নয়—এর পেছনে থাকতে পারে একটি সংগঠিত চক্র।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে— কিছু পাম্পে দিনের নির্দিষ্ট সময়ের পর তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হচ্ছে, কর্মচারীদের মাধ্যমে গোপনে তেল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, সেই তেলই পরে অনলাইনে উচ্চ দামে বিক্রি।
একজন ভুক্তভোগী বাইকার বলেন, পাম্পে তেল নেই বলে ফিরিয়ে দিয়েছে। পরে অনলাইনে কিনতে হয়েছে ২৮০ টাকা লিটার দরে।
অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে—ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে নিয়মিত পোস্ট, ‘ইনবক্স করুন’ বা ‘ডেলিভারি অ্যাভেইলেবল’ অফার, প্লাস্টিক বোতল ও গ্যালনে সংরক্ষিত তেল
এই ব্যবসায় নেই কোনো লাইসেন্স, নেই নিয়ন্ত্রণ—তবুও চলছে প্রকাশ্যে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন— প্লাস্টিক বোতলে তেল রাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক, ভেজাল তেলের সম্ভাবনা রয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে— পাম্পের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মচারীর সম্পৃক্ততা, স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে সংগ্রহ ও সরবরাহ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দ্রুত বিক্রি।
এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে— কেন এই অবৈধ বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি জানে না? নাকি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে?
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত অভিযান ও ডিজিটাল নজরদারি না বাড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।
পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ শুধু তেলের জন্য অপেক্ষা করছে না— তারা অপেক্ষা করছে একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থার জন্য।









