শনিবার | ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

আনসার-ভিডিপি

নারকেলের ছোবড়া থেকে কোকোপিট, কৃষিতে ভিডিপি সদস্যের অভিনব উদ্যোগ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

নারকেলের ছোবড়াকে বর্জ্য হিসেবে ফেলে না দিয়ে আধুনিক কৃষির গুরুত্বপূর্ণ উপকরণে রূপান্তরের অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার আনসার-ভিডিপি সদস্য মোঃ রবিউল ইসলাম। উপজেলার ১৫নং কুলটিয়া ইউনিয়নের এই সদস্য নারকেলের ছোবড়া প্রক্রিয়াজাত করে কোকোপিট (Cocopeat/Cocodust) উৎপাদনের মাধ্যমে আধুনিক ও মাটিবিহীন চারা উৎপাদন প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে এ উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি নিজস্ব কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আত্মনির্ভরশীলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

নারকেলের ছোবড়া থেকে আঁশ পৃথক করার পর অবশিষ্ট পিথজাতীয় অংশ সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াজাত করে কোকোপিট তৈরি করছেন রবিউল ইসলাম। আধুনিক কৃষিতে কোকোপিট একটি উদ্ভিদ বৃদ্ধির সহায়ক মাধ্যম (Growing Medium) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে প্রো-ট্রে বা ট্রে পদ্ধতিতে টমেটো, মরিচ, বেগুন, ক্যাপসিকাম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা, বিভিন্ন লতাজাতীয় সবজি ও অন্যান্য ফসলের মানসম্মত চারা উৎপাদনে এটি ব্যবহার করা যায়। এর হালকা ও পানি ধারণক্ষম বৈশিষ্ট্যের কারণে চারার শিকড়ের বিকাশেও কোকোপিট উপযোগী মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। মাটিবিহীন পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের ফলে প্রচলিত মাটিভিত্তিক নার্সারিতে বিদ্যমান মাটিবাহিত রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

রবিউল ইসলামের উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো, নারকেলের ছোবড়ার বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর অবশিষ্টাংশকেও কার্যকর কৃষি উপকরণে রূপান্তর করা। ছোবড়া থেকে একদিকে যেমন প্রচলিত পদ্ধতিতে আঁশ, দড়ি বা রশি তৈরি করা যায়, অন্যদিকে আঁশ পৃথক করার পর অবশিষ্ট অংশকে প্রক্রিয়াজাত করে তিনি কোকোপিট উৎপাদন করছেন। ফলে কৃষি উপকরণ হিসেবে নতুন মূল্য সংযোজনের পাশাপাশি কৃষিজ উপজাতের পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উদ্যোগেরও দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য কাঁচামাল ব্যবহার করে আধুনিক কৃষির প্রয়োজনীয় উপকরণ উৎপাদনের এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনাও সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশে কোকোপিটভিত্তিক আধুনিক নার্সারি ও চারা উৎপাদনের ব্যবহার ইতোমধ্যে বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মনিরামপুরে রবিউল ইসলামের উদ্যোগটি স্থানীয় পর্যায়ে কোকোপিট ব্যবহার করে আধুনিক চারা উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যশোর জেলায় এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ায় জেলা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা উদ্যোগটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেছেন। প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা পেলে এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আনসার-ভিডিপির একজন সদস্য হিসেবে রবিউল ইসলামের এ উদ্যোগ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং স্থানীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তার এ উদ্যোগ গ্রামীণ পর্যায়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার এবং টেকসই জীবিকা গঠনে অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

 

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD