শনিবার | ২৭ জুন, ২০২৬ | ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

পরীক্ষায় ঘাপলা বরদাস্ত করা হবে না : শিক্ষামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা সংক্রান্ত কোনো অজুহাত গ্রহণ করা হবে না। বিদ্যুৎবিভ্রাটের মতো কারণ দেখিয়ে ক্যামেরা বন্ধ থাকার ব্যাখ্যা দেওয়া হলে তা সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচিত হবে।

শনিবার রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত দুটি পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

দুপুরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার সময় কোনো ধরনের অনিয়ম বা ‘ঘাপলা’ বরদাস্ত করা হবে না। পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের নথি সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পরীক্ষার কোনো দলিল যেন তামাদি না হয়, সবকিছু সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানান, এমন আইন করা হবে যা শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, সংশ্লিষ্ট সবার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হয়, তা আমাদের জানা আছে। এখন থেকে সবকিছু নজরদারির আওতায় থাকবে, বলেন তিনি।

শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শূন্য শতাংশ পাশ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের পূর্বঘোষণা থাকলেও মানবিক দিক বিবেচনায় আপাতত তা কার্যকর করা হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে ‘পোষ্য কোটা’র সমালোচনা করে তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে হবে। বিশেষ সুবিধা দিয়ে কাউকে সুযোগ দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের সন্তানদের নিজ কর্মস্থলের জেলা স্কুলে পড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এতে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে না পারলে জনসংখ্যা দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে সকাল ১০টায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন-২০২৬’-এর আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা ও সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মানুষের অভাব নেই, কিন্তু দক্ষ কর্মক্ষম মানুষের সংকট রয়েছে।

কারিগরি শিক্ষাকে দেশের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাপান, জার্মানি ও কানাডার মতো দেশগুলো হাতে-কলমে শিক্ষার মাধ্যমে উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশেও এই খাতকে ‘থার্ড সেক্টর’ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং আগামী বাজেটে এর প্রতিফলন দেখা যাবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো স্বল্প সময়ে দক্ষতা অর্জন করে কর্মসংস্থান তৈরি করা। এজন্য বাস্তবমুখী পাঠ্যক্রম প্রণয়নের ওপর জোর দেন তিনি, যা সরাসরি কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পলিটেকনিকের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা ঠিকমতো পাঠদান করছেন কি না, তা আমি ঢাকা থেকেই পর্যবেক্ষণ করব।

মতবিনিময় সভা ও সেমিনারে রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD