সোমবার | ২৫ মে, ২০২৬ | ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফের ৩ দিনের রিমান্ডে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর পল্টন থানায় মানব পাচার আইনে করা মামলায় এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে তৃতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এই আদেশ দেন।

দ্বিতীয় দফায় ৬ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান ফের চার দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিকে অতি সতর্কতার সাথে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও ৬ দিনের সময় স্বল্পতার কারণে পাওয়ার অব অ্যাটর্নিপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলোর নির্বাচন পদ্ধতি, এফডব্লিউসিএসএম-এর অপারেশনাল কার্যক্রম এবং ২০২২-২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় কতজন কর্মী প্রেরণ করা হয়েছে তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া এই আসামির এজেন্সির মাধ্যমে প্রেরিত যাত্রীদের মধ্যে কতজন ফেরত এসেছে, মেডিকেল ফি বাবদ কত টাকা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করার জন্য তাকে ফের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধার এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থেও এটি জরুরি।

এর আগে, গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করা হয়। ২৪ মার্চ ৫ দিন এবং ২৯ মার্চ তাকে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।

সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় মামলাটি দায়ের করেন আফিয়া ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী আলতাব খান। মামলায় সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, সাবেক সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদ এবং ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. রুহুল আমীন স্বপনসহ ১০৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জনশক্তি রপ্তানিতে ২ হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্ট থাকলেও আসামিরা একটি ‘মাফিয়া সিন্ডিকেট’ তৈরি করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে জঘন্য অপরাধ করেছেন। সাবেক সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন সরকারি চাকুরিতে থাকা অবস্থায় নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তার ছেলেকে এই সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সাবেক মন্ত্রী ইমরান আহমেদ তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলেকে বিধি-বহির্ভূতভাবে ‘প্রবাসী’ নামক একটি অ্যাপস চালুর অনুমোদন দিয়ে এই চক্রকে সহযোগিতা করেছেন।

পরস্পর যোগসাজশে আসামিরা বাদীর সরলতার সুযোগে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ৮৪১ জন কর্মীর বিপরীতে প্রত্যেকের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা হারে মোট ১২ কোটি ৫৬ লাখ ১ হাজার টাকা আদায় করেছেন। এছাড়া সঙ্ঘবদ্ধভাবে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD