সরকারি কেনাকাটা ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার জন্য বিগত সরকারের অভুত পূর্ব একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিল ম্যানুয়াল টেন্ডার থেকে ইজিপি সিস্টেম চালু করা। এতে খুন খারাপি গোলাগুলি টেন্ডার বাক্স ছিনতাই , পেশি শক্তির অপব্যবহার, সরকারি দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সরাসরি হস্তক্ষেপ বন্ধ হলেও শুরু হয়েছে নতুন করে নেট ক্রাইম। ম্যানুয়াল টেন্ডার থেকে ইজিপি সিস্টেম চালু হওয়ার পরে এই জন্য শুভঙ্করের ফাঁকি,,, মার্কেট প্রাইস, স্টান্ডারড রেট পণ্যের গুণগত মান বিবেচনা না করে নিম্নদর দাদাকে কার্যাদেশ প্রদান করার নিয়ম চালু হয় । শেখানো ও আবার টেকনিক, একই ব্যক্তি একাধিক ফার্মে ভিন্ন ভিন্ন দর দাখিল করে, সেখানে নিম্ন দর দাতাকে শো করে কার্যাদেশ প্রদান করে সর্বোচ্চ দর দাতাকে যেহেতু নিম্নদাতা ও সর্বোচ্চ দর দাতা একই প্রতিষ্ঠানের মালিক। তাই সুযোগ পেয়ে সেই দুর্নীতিবাজ চক্র সর্বোচ্চ দর দাতা কে কার্যাদেশ প্রদান করে,যাহা সম্পূর্ণ পিপিআর বহির্ভূত।
- কারণ ই জিপিতে জানেনা সবাই কিভাবে অভিযোগ করবে, কে করবে তদন্ত আর কে করবে এসব নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি । এসব অনিয়ম চোখে আসার পর পিপিআর ২০২৫ সংশোধন করে আনা হয় SLT Significancey Lowest Tender Price । এখানেও শুরু হয়েছে অনিয়ম, নির্দিষ্ট ফার্মকে কাজ দেয়ার জন্য SLT যে আনার জন্য উপরে এবং নিচের প্রতিষ্ঠানকে টেকনিক্যালি ডিসকোয়ালিফাইড করা হয় ইচ্ছেমত ,SLT যেন এক ভেলকিবাজিতে পরিণত হয়েছে, সবার মুখে শুধু SLT কিন্তু ওখানে কি হয় কেউ জানে না , অনিয়ম ঢাকার জন্য শুধু SLT র দোহাই দিয়ে পার হচ্ছে দুর্নীতিবাজরা ।বিগত সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ক্রয় সংক্রান্ত ব্যাপারে জড়িত পি ই ও অন্যান্যদের দক্ষ হিসেবে তৈরি করার জন্য ট্রেনিং করানোর পরও নিজ দায়িত্বে টেন্ডার প্রক্রিয়া অনলাইন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে পারছে না তারা, সামান্য চাহিদা নিরূপণ করে বাৎসরিক ক্রয় পরিকল্পনা অনলাইনে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে অনুমোদন করাতে পারে না তারা।আর তখনই পি ই রা ছুটে যান বহিরাগত ইজিপি এক্সপার্টদের কাছে। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগায় কতিপয় দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার তারা পিই দের বলে যে আমরাই আপনার প্রতিষ্ঠানের পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেব আপনার কোন ইজিপি এক্সপার্টের জন্য টাকা ব ফি প্রদান করা লাগবে না ,শুধু আইডি পাসওয়ার্ড টা আমাদেরকে দেন। পিইরা কাজ জানে না ব্যর্থতার দায় এড়াতে আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে দেয় ঠিকাদারদেরকে , আর তখনই কতিপয় ঠিকাদার ইউটিউব থেকে ইজিপির কোনরকমে গুজামিল দিয়ে কিছু কাজ শিখে নিজেদেরকেই জিপি এক্সপার্ট দাবি করে, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সদর হাসপাতালগুলোর তত্ত্বাবধায়ক সহ বিভিন্ন পিইদের কাছে এবং গুজামিল দিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দায়িত্ব নেয়, আইডি পাসওয়ার্ড পাওয়ার পর দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার চক্র তখন টেন্ডার প্রক্রিয়া নিজেরায়ত্তে নিয়ে সম্পূর্ণ নিজের অফিসে বসে নিজের ইচ্ছে মতো মূল্যায়ন করে নোয়া প্রদান করে অধিকাংশ পি ইএবং কমিটির লোকেরা জানেনা কখন স্বাক্ষর হলো কখন নেওয়া হলো।পিইরা অন অভিজ্ঞ তারা তো অসহায়, দেখা যায় কোনরকম পিপিআরকে ফলো না করে নিজের ফার্মে কাজ দেয়ার জন্য মূল্যায়ন কমিটির স্বাক্ষর ছাড়াই নোয়া প্রদান করে এই দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার চক্র। কমিটির লোকেরা যানেই না কখন কিভাবে কি হয়েছে। সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করলে নাইনটি পার্সেন্ট কর্মকর্তার অডিট আপত্তি হবে। পিইর আইডি পাসওয়ার্ড এবং বিডারের এর আইডি পাসোয়ার্ড ঠিকাদারের অফিসের একই ল্যাপটপের একই আইপি থেকে ওপেন করায় বর্তমানে সবচেয়ে বড় রকমের ভয়ংকর জটিলতা দেখা দিয়েছে তা হল লাইভের অনেক টেন্ডার বাতিল হয়ে যাচ্ছে।অনেক সদর হাসপাতাল ও উপজেলার লাইভ টেন্ডার ইতিমধ্যে বাতিল হয়েছে যা নিয়ে বর্তমানে তোলপাড় সৃষ্টি হচ্ছে এটি একটি অকল্পনীয় ঘটনা , তার কারণ একটাই এমআইএস পিইদেরকে টেন্ডার প্রক্রিয়ার সম্পন্ন করার জন্য আইডি পাসওয়ার্ড প্রদান করে পিইরা কাজ জানে না বিধায় তাদের ব্যর্থতার দায় এড়াতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঠিকাদারদের কাছে আইডি পাসওয়ার্ড হস্তান্তর করে, পিইরা আইডি পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করতে পারেনা। পিইরা যদি আইডি পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করতে না পারে সামনে আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সম্ভাবনা রয়েছে, একটি জরিপ করে দেখা গেছে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৩% প্রতিষ্ঠান নিজেরা ইজিপির মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। বিষয়টি অতীব জরুরি, জরুরী ভিত্তিতে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের মনোযোগ দেওয়া উচিত এবং ইজিপিতে দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে যেকোনো উপায়ে। পিইদেরকে বাধ্যতামূলক কাজ শিখতে হবে এবং সার্টিফিকেট অর্জন করতে হবে। যেসব পিইরা ইজেপিতে মোটেই কাজ করতে জানে না তাদের অফিসের প্রকুমেন্টগুলো সেন্ট্রালি কোন সেল অথবা এম আই এস ,বা সি এম এস ডি থেকে সম্পূর্ণ করা উচিত বলে মনে করেন প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞরা পাশাপাশি ইজিপির অনিয়ম তদারকির জন্য জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ইথিকাল হ্যাকার ট্রেনিং প্রাপ্তদেরকে দিয়ে জরুরী ভিত্তিতে একটি সেন্ট্রালি মনিটরিং সেল গঠন করা এবং এই চিহ্নিত ৭/৮ জন দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার চক্র ও আইডি পাসওয়ার্ড বিক্রি করা দুর্নীতিবাজ পিই দের বিরুদ্ধে জরুরী ভিত্তিতে আইনানুক ব্যবস্থা নেয়া নতুবা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সম্মুখীন কত হবে।









