রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার বরুনাছড়ি এলাকায় গৃহবধূ হত্যা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আসামিদের মধ্যে একজন নিহত আয়েশা বেগমের আপন ভাতিজা, অন্যজন দূর সম্পর্কের নাতি।
বৃহস্পতিবার সকালে কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন, রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার ওসি মো. জসীম উদ্দিন, বরকল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২১ জুন বিকেলে বরকল থানাধীন ১ নম্বর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বরনাছড়ি (ইসলামপুর) এলাকায় নিজ বসতঘরে নিহত হন গৃহবধূ আয়েশা বেগম (৪৯)। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ব্যবহৃত একটি ইট ও একটি হাতুড়ি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আশরাফ আলী বাদী হয়ে বরকল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে বরকল থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে গত ২৪ জুন সকালে মামলার সংশ্লিষ্ট দুই আসামিকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সোহাগ (১৭) ও ওমর আলী (১৯) বরনাছড়ি (ইসলামপুর) এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সুপার আরো জানান, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোহাগের বাড়ির হাঁস-মুরগির ঘরের পাশে মাটির নিচে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১ লাখ ৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ওমর আলীর বাড়ির দক্ষিণ পাশের কলাবাগানের মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে আরো ৯৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।









