সোমবার | ৪ মে, ২০২৬ | ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩

হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের শুরুতে সাড়ে ৭ হাজার টাকা দেওয়া হবে

স্টাফ রিপোর্টার

দেশের হাওরাঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা শুরুতে সাড়ে সাত হাজার করে টাকা পাবেন। তাদের তিন মাসব্যাপী সহায়তা দেবে সরকার। ক্ষতি বিবেচনায় এ সহায়তা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ।

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে তৃতীয় অধিবেশন শেষে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান কৃষিমন্ত্রী। এর আগে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ডিসিদের অধিবেশন হয়।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, হাওর এলাকায় যে সমস্ত কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল, অন্যান্য তহবিল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল থেকে একটা অর্থ সহায়তা দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। এখন যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেটা পুষিয়ে দেওয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। আগামী তিন মাস তাদের সহায়তা দেওয়া হবে। শুরুতে আমরা সাড়ে সাত হাজার টাকা করে হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দেব। এর জন্য একটা কমিটি করা হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে তালিকা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আলুর বাম্পার ফলন হলেও অনেক কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। এ সমস্যা সমাধানে সরকার কৃষক কার্ড চালু করেছে। এটি পুরোপুরি কার্যকর হলে কোন জেলায়, কোন ইউনিয়নে, কত হেক্টর জমিতে কোন জাতের আলু চাষ হবে তার তথ্য কৃষক জানতে পারবেন। কতজন কৃষক ইতোমধ্যে আবাদ করেছেন এবং কতটুকু আবাদ বাকি আছে তাও জানা যাবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এটি কোটা ব্যবস্থাতেও যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, পরিকল্পিত উৎপাদন হলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং ভোক্তারাও সঠিক দামে পণ্য কিনতে পারবেন। এতে উৎপাদক ও ভোক্তা উভয় পক্ষই উপকৃত হবে।

মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি মানুষের নিয়ন্ত্রণে নেই। অনেক সময় ভালো ফলনের পরও অতিবৃষ্টি বা বন্যায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ অবস্থায় খাদ্যাভ্যাসে আলুর ব্যবহার আরো বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে এখন বিশেষ জাতের আলু উৎপাদনে সফলতা এসেছে, যেগুলো দিয়ে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও চিপস তৈরি করা হয়। আগে এসব আলু আমদানি করতে হতো। এবার দেশে ভালো উৎপাদন হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এসব আলু বিশ্ববাজারে রফতানির আশা করছে সরকার।

সীমান্ত দিয়ে গরু আসা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছু হাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, কারণ সেখানে প্রকৃত ক্রেতার তুলনায় অস্বাভাবিক পরিমাণ গরু আসত। বিজিবিও এ বিষয়ে নজরদারি করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন করে সীমান্ত দিয়ে গরু আসবে না।

মন্ত্রী বলেন, দেশে উদ্বৃত্ত গরু নেই, তবে ঘাটতির আশঙ্কাও নেই। খামারিরা বাজারদর অনুকূলে না থাকলে গরু বিক্রি না করে আরো কিছুদিন পালন করতে পারেন। ফলে অনেক সময় উদ্বৃত্তের ধারণা তৈরি হয়।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে শিক্ষিত তরুণদের কৃষি ও খামার ব্যবস্থাপনায় আগ্রহ বাড়ছে, যা কৃষি খাতের জন্য ইতিবাচক দিক।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD