বৃহস্পতিবার | ৯ জুলাই, ২০২৬ | ২৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

২০১৮ সালের মতো মিডনাইট নির্বাচন হলে জাতিকে মূল্য দিতে হবে: শফিকুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার

২০১৮ সালের মিডনাইট ইলেকশনের মতো যদিএবারও নির্বাচন হয় বা প্রত্যাশিত নির্বাচন হাতছাড়াহয়ে যায়, সেজন্য এ জাতিকে মূল্য দিতে হবে বলেমন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীআমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এবার সেরকমপরিবেশ সৃষ্টি হবে না, হতে দেওয়া উচিত না। এটাকেযেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে যে, এবার সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে।

 

সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণমিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টেরসদস্য ইভারস আইজাবসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষেআয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

ব্রিফিংয়ে জামায়াত আমির দেশবাসীর প্রতি গণভোটে‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জামায়াত সংস্কারের পক্ষে অবস্থান করছে এবংগণভোটে হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমেই দেশবাসী সংস্কারেরপক্ষে তাদের মতামত স্পষ্ট করতে পারে। দলীয় ভোটযাকে ইচ্ছা দেওয়া হলেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থেগণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

 

নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বলে শেষ মুহূর্তেজামায়াতের নির্বাচন বয়কটের আশঙ্কা আছে কিনা? জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, দেশের প্রত্যেকটা ক্রেডিবল নির্বাচনে জামায়াতেইসলামী অংশ নিয়েছে। একটা নির্বাচনই আমরাবয়কট করেছি, সেটা ২০১৮ সালের নির্বাচন।যেটিকে মিডনাইট ইলেকশন বলা হয়ে থাকে। যখনআমাদের কাছে পরিষ্কার হতে থাকে যে, এটা কোনোনির্বাচনই না, তখন দুপুর সাড়ে ১২টায় আমরানির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই।

 

তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এবার সেরকমপরিবেশ সৃষ্টি হবে না, হতে দেওয়া উচিত না। এটাকেযেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে যে, এবার সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। এবারের নির্বাচনও যদিহাতছাড়া হয়ে যায়, আমরা জানি না, এ জাতিকেকতোটা মূল্য দিতে হবে।

 

তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে সবার জন্য লেভেরপ্লেয়িং ফিল্ড আছে কিনা, কোনো সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ ওঅভিযোগ আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়েছে। আমরাবলেছি আছে। তবে আমরা এই মুহূর্তে এসব তাদেরআগেই জানাতে চাচ্ছি না বলে জানিয়েছি। কারণএসব সমাধান করা যাদের দায়িত্ব আগে তাদেরকেজানাবো। প্রধানত- নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনকমিশনকে অর্থবহ সহযোগিতা করা সরকারেরদায়িত্ব। যদি এই দুই অথরিটিকে জানানোর পরসমাধান পেয়ে যাই তা হলে বাইরের কাউকে জানাবোনা। যদি সমাধান না পাই তাহলে জনগণকেজানাবো। তখন আপনারাও (ইইউ) জানতে পারবে।

 

জামায়াত আমির বলেন, বৈঠকে তারা জানতেচাইছেন, যদি আগামীতে জামায়াতে ইসলামী সরকারগঠন করে তাহলে প্রতিবেশীর সঙ্গে আচরণ কেমনহবে। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, বিশ্বের সভ্য, শান্তিকামী ও গণতান্ত্রিক সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক, ভালো সম্পর্ক থাকবে। যারা আমাদের প্রতিবেশীতাদের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ থাকবে।আমরাও সেই প্রতিবেশীর কাছ থেকে পারস্পরিকশ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশীসুলভ আচরণপ্রত্যাশা করি।

 

আমরা বলেছি, নির্দিষ্ট কোনো রাষ্ট্রের দিকে আমরাঝুঁকতে চাই না। বরং সারা বিশ্বের সঙ্গে বন্ধুত্ব ওসমন্বয় রক্ষা করে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতেচাই।

 

জামায়াত আমির বলেন, যুবকরা বিশ্বাস করে, জামায়াতে ইসলামী যদি কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়তাহলে সেটা রক্ষা করে। এই বিশ্বাসের জায়গাথেকেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণছাত্র সংসদ নির্বাচনে এর রিফ্লেকশন হয়েছে। যুবশক্তির প্রতিফলন ঘটেছে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তানিয়ে কনসার্ন। কারণ মা বোনেরাই আমাদের প্রথমতপছন্দ করছে। এর লক্ষণ আমরা এরইমধ্যে দেখছি।কিন্তু আমাদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়ামা-বোনদের বাধা দেওয়া হচ্ছে, এমনকি হিজাব খুলেনেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, মা-বোন তোসবারই আছে। এসব কেন? রাজনৈতিক দলের কাজহচ্ছে সব শ্রেণি, পেশার, লিঙ্গের মানুষকে সম্মানদেখানো। ভাইয়েরা সিদ্ধান্ত নিলে মায়েরাও নিজেদেরমতো সিদ্ধান্ত নেবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধাদেওয়ার সুযোগ নেই। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকতেহবে।

 

জামায়াত আমির বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, আগামীতে বাংলাদেশের জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেদেশকে নিরাপদ, দুর্নীতিমুক্ত, সুশাসন কায়েমেরজন্য। আমরা চেষ্টা করবো আমাদের প্রতি অর্পিতদায়িত্বের আমানতের বোঝা সঠিকভাবে বহন করারজন্য। জনগণ যদি অন্য কাউকে পছন্দ করে আমরাদেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো। অন্যরা যদিঅপজিশন গ্যালারিতে, বিরোধী দলে বসেনসেক্ষেত্রেও আমরা একইভাবে প্রত্যাশা করবো। এটাস্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।

 

তিনি বলেন, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও দেশকে এগিয়েনেওয়ার জন্য সমাজে স্থিতিশীলতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।আমরা চিন্তা করছি, নির্বাচন হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেস্থিতিশীলতার প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষ বা রাজনৈতিকদল হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। বিচার বিভাগেরস্বাধীনতা ভোগ করবে। তবে বিচার বিভাগেরজবাবদিহিতা, দায়বদ্ধতার জায়গা থাকবে, সেখানেভারসাম্য নিশ্চিত করা হবে।

 

গত ৫৪ বছরের রাজনীতি দেখে জনগণ হতাশ উল্লেখকরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ওই রাজনীতি আরমানুষ দেখতে চায় না, পরিবর্তন চায়। সেইপরিবর্তনের জন্য মাসের পর মাস ঐক্যমত্য কমিশনবৈঠক করেছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল অংশনিয়েছে, যারা এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বৈঠকথেকে উঠে আসা রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শকেধারণ ও গ্রহণ করতে হবে, প্রতিশ্রুতি দিতে হবেক্ষমতায় গেলে এসব বাস্তবায়ন করতে হবে। সংস্কারবাস্তবায়ন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত ও দুর্নীতি বিরোধীঅবস্থান যদি নিশ্চিত হয় তাহলে আমরা সব জায়গায়, সব ধরনের সহায়তা করতে আমরা প্রস্তুত।

 

তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখানকার ৮০ ভাগ কেউই জীবনে একটা ভোটওদিতে পারেন নাই। সুতরাং নিজের ভোট, তরুনসহযোদ্ধার ভোটও নিশ্চিত করবেন। জাতির সতর্কপাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলেপ্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

 

তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামীনির্বাচনটা সুন্দর হতে সহযোগীতা করুন। আমরাসংস্কারের পক্ষে, অতএব আমরা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে।আমরা জানি দেশবাসীও সংস্কার চায়, দেশবাসীরপ্রতি অনুরোধ, রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক, যাকেই ভোট দিন দেন, তবে সংস্কারের স্বার্থেগণভোটে হ্যাঁ ভোট দেবেন।

 

সম্প্রতি মূলধারার গণমাধ্যম একটি পক্ষের দিকেঝুঁকে পড়ছে বলে মনে হচ্ছে। এই প্রবণতা আমরাগণ-অভ্যুত্থানের সময়ও দেখেছি, একটি পক্ষকে সেফকরার অবস্থানে ছিল। এ ব্যাপারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চজনপ্রিয় দলের প্রধান হিসেবে মন্তব্য জানতে চাইলেজামায়াত আমির বলেন, কতিপয় মূলধারারগণমাধ্যমের রোল একটি দলের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে।ওই ঝোঁকে আর এখন বাংলাদেশে বড় কিছু হয় না, তেমনি আমরা তাদের কাছে এরকম কিছু প্রত্যাশাকরি না। গণমাধ্যমের পজিশন গণমাধ্যম, এটা দলীয়মাধ্যম না, এটা মাথায় রেখে ফাংশন করুক এটাইআমাদের প্রত্যাশা।

 

ডাকসু নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াতআমির বলেন, গণমাধ্যমের কথাই যদি সব হতোতাহলে কোনো কোনো গণমাধ্যমের প্রকাশ্যএকপেশে পক্ষপাতিত্ব আচরণ করেও সফল হয়নি।আমরা জনগণকে যথেষ্ট সচেতন, সতর্ক মনে করিনা। আমরা জনগণকে মিসআন্ডারস্ট্যান্ড করি না।আমি বললেই জনগণ সেটা খেয়ে ফেলবে সেটা আমিবিশ্বাস করি না। সুতরাং গণমাধ্যম তার নিজেরঅবস্থান নিজেকেই সংরক্ষণ করতে হবে। এটা চতুর্থস্তম্ভ বলা হলেও আমার কাছে এটা দ্বিতীয় স্তম্ভ। কারণসমাজকে দুটি দিক থেকে সমানভাবে দেখতে হয়, রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের দিক থেকে। গণমাধ্যমহচ্ছে বিবেক। আমরা বিবেকের প্রতিফলনটা সাদাকেসাদা, কালাকে কালা বলার মতো হতে দেখতে চাই।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণমিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টেরসদস্য ইভারস আইজাবসের নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্টএকটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেজামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনেরসহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ওমিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুলমাহবুব জুবায়ের, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. যুবায়েরআহমেদ, উন্নয়ন টিম লিড দেওয়ান আলমগীর এবংজামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসরড. মাহমুদুল হাসান।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD