বৃহস্পতিবার | ২৫ জুন, ২০২৬ | ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩

রাজবাড়ী

রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ চাষীদের বুকফাটা আর্তনাদ! দেখার কেউ নেই

মোঃ ইউনুছ আলী ,সম্পাদক দৈনিক চিত্র,ও dainikchitro.com

আমার পরিচিত একজন কলেজ শিক্ষক, যার স্ত্রী একজন স্কুল শিক্ষকা। শখ করে উচ্চ ফলনশীল পিয়াজের দানা কিনে ৫০ শতাংশ জমিতে পিঁয়াজ চাষ করে বাম্পার ফলন হয়েছে, বন্ধু কৃষক মহা খুশি। তার সর্বসাকুল্যে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। হিসাব করে দেখেছে পেঁয়াজ হবে নূন্যতম দেড়শ মন। তারমধ্যে ২ হাজার টাকা মন বিক্রি হলে তার লাভ হবে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা,বন্ধু আমার খুশিতে গদগদ। সে কিন্তু চাষ করেছে নিজের জমিতে। পেঁয়াজ তোলা যখন শুরু হয়েছে তখনই ঘটেছে হালকা বিপত্তি। পিয়াজ উঠালে এক সপ্তাহ কিংবা ১৫ দিনের মধ্যেই পেঁয়াজ পচে যাচ্ছিল। হয়তো বা পেঁয়াজের বীজের সমস্যা বা অন্য কিছু, বাজারে নতুন আসা হাইব্রিড পেঁয়াজের বীজের এই পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যাবে কিনা এ সম্পর্কে কারো কোন অভিজ্ঞতাই ছিল না। আবার সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ জ্ঞান কৃষককে দেন নাই।

সৌখিন কৃষক বন্ধুর আশা ছিল পিয়াজ তুলে সে ঘরে রেখে দেবে আরো লাভের আশায়। কিন্তু যখন দেখলো পিঁয়াজ পচে যাচ্ছে তখন সে ভয়ে পেঁয়াজ তুলছিল না কারণ পেঁয়াজের দাম ছিল খুব কম ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, কিংবা পেঁয়াজ  অবিক্রিত থাকার মত অবস্থা। নতুন কৃষক-কৃষাণী কোনো উপায় না দেখে ৪০ হাজার টাকায় মাঠ থেকেই পেঁয়াজ বিক্রি করে দেয়, যা ক্রেতারা নিজেরা জমি থেকে তুলে নিয়ে যাবে।

এটা কিন্তু একদম সত্য ঘটনা। এখন চিন্তা করেন, যারা অন্যের জমি লিজ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছে তারা যখন হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারছে না বা পিঁয়াজ পচে যাচ্ছে, সেই পেঁয়াজ নদীতে ফেলে দিচ্ছে, সেই অসহায়, হতদরিদ্র কৃষকের অবস্থা কেমন হতে পারে?

আমার বাড়ি যেহেতু রাজবাড়ী জেলায়, আমার কাছে কয়েকজন কৃষক ফোন করেছে যে কাওরান বাজারে পিঁয়া জা আনলে বিক্রি করা যাবে কিনা, আমি এখানে কয়েকজন পেঁয়াজ ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে দেখলাম, যে পরিমাণ গাড়ি ভাড়া তাদের ঢাকায় পেঁয়াজ এনে বিক্রি করতে গেলে লাভের চাইতে ক্ষতির সম্ভাবনা শতভাগ।

কৃষকের কান্না দেখে আমরা চরম মর্মাহত ও ব্যথিত। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী ছোট্ট একটি জেলা রাজবাড়ী, এবং এই জেলার কৃষকদের মূল উৎপাদিত ফসল পেঁয়াজ এবং পাট। এখন এই কৃষকদের জন্য কারো কি কিছুই করার নেই?। তারা কি এভাবে প্রত্যেক দিন হাটে পেঁয়াজ নিয়ে চোখের পানি ফেলবে ,কিংবা পেঁয়াজ  বিক্রি করতে না পেরে নদীতে ফেলে দিবেন।

বর্তমান সরকারের সবচাইতে প্রভাবশালী উপদেষ্টা ড: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উনি এবং আরো একজন প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম যারা রাজবাড়ী জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। এছাড়াও রাজবাড়ী দুই আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ অত্যন্ত ভদ্র মানুষ , এবং অসহায়, গরিব -দুঃখী মানুষের বন্ধু হিসেবে ইতিমধ্যেই  তার কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে প্রশংসিত হচ্ছেন।

প্রচন্ড তাপদাহে কৃষকের জীবন যায় যায় । জীর্ণ-শীর্ণ রাজবাড়ী জেলার গরীব -দুঃখী অসহায় কৃষকদের বাঁচাতে কোন উপায় বের করা যায় কিনা এ ব্যাপারে রাজবাড়ী জেলা বাসীর পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারে রাজবাড়ী জেলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD