চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনায় মেঘনার প্রবল ঘূর্ণিস্রোতে পড়ে পাঁচ হাজার বস্তা ধান ও চালবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। তবে কার্গোতে থাকা মাঝিমাল্লাসহ পাঁচ শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুরানবাজার ঘাটসংলগ্ন মোহনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কার্গোটির চালক এরশাদ মাঝি জানান, মঙ্গলবার পাবনা থেকে তিন হাজার ৫০০ বস্তা চাল ও এক হাজার ৫০০ বস্তা ধান নিয়ে ‘পারবো’ নামের কার্গোটি চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। বুধবার সকালে পুরানবাজার ঘাটের কাছে পৌঁছালে তিন নদীর মোহনায় প্রবল ঘূর্ণিস্রোতের কবলে পড়ে কার্গোটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় এবং ডুবে যায়।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় কার্গোতে থাকা পাঁচজন শ্রমিক সাঁতরে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে ডুবে যাওয়া কার্গোটিকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ডুবে যাওয়া ধান ও চাল পুরানবাজারের সাতজন ব্যবসায়ীর। প্রাথমিক হিসাবে তাদের প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসেন বলেন, কার্গোডুবির বিষয়ে এখনো থানায় আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য আসেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) চাঁদপুর নদীবন্দরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি জানার পর নৌ-নিরাপত্তা বিভাগের উপপরিচালককে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনায় তীব্র ঘূর্ণিস্রোত ও প্রতিকূল নৌ-পরিবেশের কারণে প্রায়ই নৌযান দুর্ঘটনা ঘটে। তাই এ নৌপথে চলাচলের সময় কার্গোসহ সব ধরনের নৌযানকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের দাবি জানিয়েছেন তারা।









