আনন্দ র্যালি, স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মাগুরা মেডিকেল কলেজের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে মাগুরা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কলেজ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক, চিকিৎসক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। র্যালিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এর আগে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান।
পরে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মাগুরা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর শিক্ষা কার্যক্রম, বিভিন্ন অর্জন, শিক্ষার্থীদের সাফল্য এবং দীর্ঘ আট বছরের পথচলার নানা স্মৃতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে মাগুরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালে মাগুরা মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার আট বছর অতিক্রম করলেও এখনো কলেজটির নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ হয়নি। বর্তমানে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের একটি অংশে মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকলেও শিক্ষা ও একাডেমিক ফলাফলের ক্ষেত্রে মাগুরা মেডিকেল কলেজ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ফলাফলের দিক থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধীনে থাকা ২৮টি মেডিকেল কলেজের মধ্যে মাগুরা মেডিকেল কলেজ মোট চারবার প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, সীমিত অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কলেজটি এগিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী ক্যাম্পাস ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পেলে শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মাগুরা সদর হাসপাতালে ২০১৮-১৯ সেশনে শুরু হয় মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী রয়েছে ৩২৯ জন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সহযোগী অধ্যাপক (নেফ্রোলজি) ডা. আ. ত. ম. আব্দুল্লাহেল কাফী, সহযোগী অধ্যাপক (ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিকস) ডা. সুপর্ণা আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক (পেডিয়াট্রিক্স) ডা. মোহাম্মদ আব্দুল হাই, সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. দেবাশিস বিশ্বাস, সহযোগী অধ্যাপক (ইলিজারভ ও ডিফরমিটি কারেকশন) ডা. মো. আরিফুজ্জামানসহ অন্যান্য শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আট বছর পূর্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুরো কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও একাডেমিক সাফল্য ধরে রেখে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।









