চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারের উভয় পাশে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৭০ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি নির্মাণ শেষ হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, সড়কের ক্ষয়ক্ষতি ও যানজটের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশ দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে।
চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশের সড়ক উন্নয়নের কাজ চলতি বছরের জুলাই থেকে শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে হাজীগঞ্জ বাজারের উভয় পাশে আরসিসি সড়ক নির্মাণের কাজ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর আগে বলাখাল অংশের আরসিসি সড়কের কাজ শেষ হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহিনুর রহমান বলেন, চলতি বছরের জুলাই থেকে আরসিসি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বলাখাল অংশের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। হাজীগঞ্জ বাজারের উভয় পাশে ৮৭০ মিটার আরসিসি সড়কের কাজও এগিয়ে চলছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যেই এ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ বাজার চাঁদপুর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এ বাজারে কেনাকাটা ও ব্যবসায়িক কাজে আসেন। পাশাপাশি চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়ক দিয়ে জেলার সঙ্গে কুমিল্লাসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। ফলে এ অংশে সড়কের অবস্থা খারাপ হলে এর প্রভাব পড়ে পুরো আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায়।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে পথচারী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ বাড়ে। কোথাও কোথাও সড়কের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। নতুন আরসিসি সড়ক নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি, সড়কের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি এবং যানবাহন চলাচলে গতি ফিরবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের মতে, হাজীগঞ্জ বাজারের মতো ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশে টেকসই সড়ক নির্মাণ শুধু বাজারকেন্দ্রিক যোগাযোগের উন্নয়ন করবে না; চাঁদপুরের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জেলার সড়ক যোগাযোগেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কাজটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে শেষ হলে দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষের চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে।
সড়কটি নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে হাজীগঞ্জ বাজারের দীর্ঘদিনের সড়ক-ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে—এমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের।








