“গরিবের কথা কেউ শোনে না”—এভাবেই চোখের জল ফেলতে ফেলতে বললেন বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ির সামনে অনশনরত তরুণী জিনিয়া খাতুন।
বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার মৌশা গ্রামের বাসিন্দা জিনিয়া খাতুন মাগুরা পৌর এলাকার দেড়ুয়া গ্রামের আব্দুল হাই বিশ্বাসের ছেলে আগুন বিশ্বাসের বাড়ির সামনে এসে অনশন শুরু করেন।
জিনিয়ার অভিযোগ, দীর্ঘ ছয় বছর ধরে আগুন বিশ্বাসের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সময়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আগুন একাধিকবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান এবং বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় দুই লাখ টাকা নেন।
জিনিয়া বলেন, “আমি আগুনের সঙ্গে ছয় বছর ধরে সম্পর্ক করেছি। বিয়ের কথা বলে টাকা নিয়েছে, আমাকে ব্যবহার করেছে। এখন সে পিছিয়ে যাচ্ছে। আমি তার বাড়ির সামনে বসে আছি—বিয়ে না করলে আইনের শরণাপন্ন হব। গরিবের মেয়ে বলে কেউ আমার কথা শুনছে না।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আগুন বিশ্বাস ও তার পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তারা বলেন,
“এ ধরনের কোনো সম্পর্ক ছিল না। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাদের ছেলে ও পরিবারকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।”
ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমিয়েছেন আগুনের বাড়ির সামনে।
এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার এক কর্মকর্তা জানান,
“এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে অনশনরত জিনিয়া খাতুন জানিয়েছেন,
“বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত আমি এখানেই থাকব। ন্যায়বিচার না পেলে আত্মহত্যা ছাড়া আমার আর কোনো পথ থাকবে না।”
অপরদিকে আগুনের পরিবার বলছে, প্রয়োজনে তারা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।









