ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের জন্য আপিলের পথ খোলা রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রার্থিতা বাতিলের পর রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে ৫-৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইসির জারি করা সাতটি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। নির্ধারিত নিয়ম না মানলে আপিল আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানিয়েছে কমিশন।
গতকাল নির্দেশনাগুলো প্রার্থীদের মধ্যে প্রচারের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছে ইসি।
চিঠিতে উল্লেখিত নির্দেশনাগুলো হলো:
আপিল আবেদন কমিশনকে সম্বোধন করে স্মারকলিপি আকারে (নির্ধারিত ফরমেটে) দায়ের করতে হবে; আপিল দায়েরকালে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ সংবলিত বিবৃতি এবং মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণ আদেশের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে; আপিল আবেদনের একটি মূল কপিসহ সর্বমোট সাতটি কপি দাখিল করতে হবে; আপিল আবেদন নির্বাচন কমিশনের আপিল আবেদন গ্রহণ-সংক্রান্ত কেন্দ্রে স্ব-স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে জমা দিতে হবে; আপিল আবেদন ৫-৯ জানুয়ারির মধ্যে দায়ের করতে হবে; আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপির জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন দাখিল করতে হবে; ওই ফরমের নমুনা নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের-সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ থেকে সংগ্রহ করা যাবে; আপিল দায়েরকারী অথবা আপিল দায়েরকারীর পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন। আপিল দায়েরের জন্য আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে থাকবে ১০টি বুথ।
তফসিল অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০-১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, একই দিনে গণভোট।
গত ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ২ হাজার ৯১টি মনোনয়নপত্র দাখিল করে। এছাড়া স্বতন্ত্র থেকে ৪৭৮টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়।
আটটি দলের কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেননি অর্থাৎ দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম।









