বুধবার | ১৯ আগস্ট, ২০২৬ | ৪ ভাদ্র, ১৪৩৩

১১ দলীয় জোটের ২৫৩ আসনে সমঝোতা, কোন দল কোন আসন পেল

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে ঘোষণামঞ্চে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের জন্য চেয়ার রাখা হলেও তিনি কিংবা তার দলের কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে বাস্তবে এই সমঝোতায় এখন পর্যন্ত ১০টি দল রয়েছে।

1বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা দেন জোটের নেতারা। ব্যানারে লেখা ছিল ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ ও ‘১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’।

2সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫৩টি আসনে দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এ ঘোষণা দেন।

3ঘোষিত সমঝোতা অনুযায়ী ২৫৩ আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি আসনে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে, মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি আসনে, খেলাফত মজলিস ১০টি আসনে, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি আসনে, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি আসনে এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি ২টি করে আসনে প্রার্থী দেবে।

4বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিকে (জাগপা) কতটি আসন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ছাড়া ঘোষিত সমঝোতার বাইরে থাকা ৪৭টি আসন নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে কোন আসন দেওয়া হতে পারে সেই তালিকা জানানো হয়েছে।

6

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১১ দলের আসন সমঝোতা নিয়ে গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়। মূলত আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে মতানৈক্যের কারণেই এই স্থগিতাদেশ আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

7পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১০ দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উপস্থিত না থাকলেও রাতের ব্রিফিংয়ে থাকবে বলে বৈঠকে একাধিক নেতা জানিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাতেও উপস্থিত ছিলেন না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো নেতা।

8এদিকে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ১১–দলীয় ঐক্যে থাকা–না থাকা নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে পৃথক সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

9সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা জামায়াতের আমিরকে ইসলামী আন্দোলনের না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।  তখন শফিকুর রহমান বলেন, ‘আর একটি দল আমাদের সঙ্গে সূচনায় ছিল, কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে না। তারা নিজেদের নিয়ে আরো বোঝাপড়া করছেন। তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে।  তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। আমরা আশা করি তারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’ যদিও সংবাদ সম্মেলনে একাধিকবার ১১ দলীয় শব্দটি উচ্চারণ করেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।

14সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জাতীয় নাগারিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের।

11আরো ছিলেন- এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান হামিদী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহম্মেদ আলী কাসেমী, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইঁয়াসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

12জামায়াতে ইসলামী ও তাঁর মিত্র দলগুলোর মধ্য ৮ থেকে ১০ এবং সর্বশেষ ১১ দলে পরিণত হয়। এর আগে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (পিআর) সংসদ নির্বাচন, জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে নভেম্বরে গণভোট আয়োজনসহ এই ৫ দাবিতে অক্টোবর ও  নভেম্বরে জুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা ৭টি দল।

13গত মাসের শেষের দিকে জামায়াতে ইসলামীর ও ৮ দলের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় হয় জাতীয় নাগরিক পার্টির- এনসিপি। এ ছাড়াও কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন দল এলডিপি’রও সমঝোতা হয়। ওই দলে এসে যুক্ত হয় এবি পার্টি। ফলে জামায়াতের নেতৃত্ব ১১ দল হয়। বাকি ৮ দলে রয়েছে- জামায়াত ইসলামী, চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। ওই প্ল্যাটফর্মে সংখ্যাগতভাবে বড় দল জামায়াতে ইসলামী। অতীতে দলটি থেকে একাধিক সংসদ সদস্য নির্বাচিতও হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD