বুধবার | ১৯ আগস্ট, ২০২৬ | ৪ ভাদ্র, ১৪৩৩

চট্টগ্রামে নগদ অর্থে জামায়াতের সবার শীর্ষে শাহজাহান চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার

চট্টগ্রামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ১৪ প্রার্থীর হলফনামা যাচাইবাছাইয়ে দেখা গেছে, নগদ অর্থের পরিমাণে সবার ওপরে আছেন চট্টগ্রাম–১৫ (লোহাগাড়া–সাতকানিয়া) আসনে শাহজাহান চৌধুরী। তার কাছে নগদ অর্থ আছে কোটি টাকা, যা অন্য কোনো প্রার্থীই স্পর্শ করতে পারেননি।

রোববার প্রার্থিতা যাচাইয়ের পর রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর থেকে প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেছে, নগদ অর্থের ক্ষেত্রে শাহজাহান চৌধুরীর অবস্থান সবার শীর্ষে। চট্টগ্রামের অন্য ১৫ প্রার্থীর কাছে যে পরিমাণ নগদ অর্থ আছে, তা তার কাছে থাকা অঙ্কের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাবেক এই আমিরের হাতে নগদ আছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩৭ হাজার ২৫২ টাকা। তার নামে ইসলামী ব্যাংকে দুটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৭১২ টাকা জমা আছে। তার নামে ৬ লাখ ৬৭৬ টাকার একটি এফডিআর রয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর দাখিলে শাহজাহান চৌধুরীর সম্পদ দেখানো হয়, ১ কোটি ৪৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮১০ টাকা, তাঁর স্ত্রীর সম্পদ ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। পেশা ব্যবসা দেখানো শাহজাহান চৌধুরী কৃষি খাত থেকে বছরে আয় করেন ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যবসা থেকে ৯৬ হাজার ৫৯০ টাকা, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে ৬১ হাজার ৪৭১ টাকা, চাকরি থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা বছরে আয় দেখান শাহজাহান চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ সালে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে জামায়াতের হয়ে লড়বেন তিনি। একই আসনে আরও দুই প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

তার হলেন বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদশের আব্দুল্লাহ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে তিনজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী এখানে মোট সম্পদ দেখিয়েছেন ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, নগদ অর্থ ১ কোটি ৩৪ লাখ এবং স্ত্রীর ২৮ লাখ। তার বার্ষিক আয় প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য হলফনামায় ‘সঠিক ও সত্য’ তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক।

তিনি বলেন, হলফনামায় ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা আইনগতভাবে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এতে প্রার্থিতা বাতিলসহ যেকোনো সময় আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু প্রার্থীই নন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিধর্মী সংস্থাগুলোও নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের হলফনামার সত্যতা যাচাই করে থাকে। এটি প্রমাণ করে—হলফনামা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি দলিল, যেখানে কোনো অসংগতি বা ভুল তথ্য মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD