সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশের পর এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে মাগুরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, মাগুরার কৃষি উদ্যোক্তা বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি আমার সংবাদ পত্রিকার মাগুরা জেলা প্রতিনিধি মিরাজ আহমেদ ও সাংবাদিক ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে আদালতে মানহানি মামলা দায়ের করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
মাগুরা রিপোর্টার ইউনিটির সভাপতি মো. ইউনুস আলী বলেন,
“সাংবাদিকরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কলম ধরেছে বলেই আজ মামলার মুখে পড়ছে। মামলা করে সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। আমরা প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে আমরা রাজপথে যেতে বাধ্য হব।”
বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম, মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি আকরাম হোসেন ইকরাম বলেন,
“এই মানববন্ধন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়, এটি সাংবাদিকতার অধিকার রক্ষার আন্দোলন।”
এ সময় মানববন্ধনে বক্তারা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো,সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার, অভিযুক্ত প্রকল্পে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের নিরপেক্ষ তদন্ত,অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ,সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,গণমাধ্যমকে ভয় দেখানোর সংস্কৃতি বন্ধ করা।
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পরিমল শীল বলেন,
“অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সেটি তদন্ত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের চুপ করানো যাবে না। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না এলে কর্মসূচি আরও কঠোর হবে।”
বাংলাদেশের আলো পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এস এম শিমুল রানা বলেন,
“আজ একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, কাল এটি সবার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। আমরা চাই প্রকল্পের অনিয়ম তদন্ত হোক এবং পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন হোক।”
বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর জেলা প্রতিনিধি রাশেদ খান বলেন,
“সাংবাদিকের কাজ সত্য তুলে ধরা। তার জবাবে মামলা হলে তা গণতন্ত্র ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অশনিসংকেত।”
মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন,
“সাংবাদিকের কাজ নিউজ তৈরি করা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে তদন্তের মাধ্যমে, মামলা দিয়ে নয়।”
মাগুরা জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক বলেন,
“পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে যদি সাংবাদিকদের মামলার মুখে পড়তে হয়, তাহলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বিপন্ন হবে।”
মাগুরা জেলা সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বলেন,
“সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ করাই সাংবাদিকতার দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের কারণে মামলা হওয়া দুঃখজনক।”
মানববন্ধন শেষে বক্তারা পুনরায় জানান, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অনিয়মের তদন্তে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।









