চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানাধীন এলাকায় সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৫, সিপিসি-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। র্যাব সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র্যাব দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধ দমন ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ জানুয়ারি বিকাল ৪ ঘটিকায় র্যাব-৫, সিপিসি-১-এর একটি আভিযানিক দল চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের প্রান্তিকপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত এজাহারনামীয় ২নং আসামি মোসাঃ নুরি বেগম (২০), ৫নং আসামি মোঃ বাবু (২৮), ৬নং আসামি মোসাঃ সোহাগী (৫০) ও ৭নং আসামি মোসাঃ খাতিজা (৫০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার এজাহার ও ঘটনার সূত্রে জানা যায়, বাদী মোঃ সম্রাট আলী শান্ত (২২)-এর পিতা মৃত নাসির উদ্দিন ওরফে বাসু (৪৫) পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন। গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে বাদীর খালা মোসাঃ লায়লা বেগম (৩৫) চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার রেলবাগান প্রান্তিকপাড়া এলাকায় জনৈক মোসাঃ আদরী বেগমের বাড়ির সামনে পৌরসভার পানির ট্যাপ থেকে পানি নিতে গেলে মোসাঃ নুরি বেগমের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়।
পরবর্তীতে নুরি বেগম মোবাইল ফোনে অন্যান্য আসামিদের ডেকে আনেন। একই দিন বেলা আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে আসামিরা সজনে গাছের ডাল, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে বাদীর খালা লায়লা বেগমকে মারধর শুরু করে। এ সময় তাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে গেলে আসামিদের হামলায় গুরুতর আহত হন বাদীর পিতা নাসির উদ্দিন ওরফে বাসু। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার একপর্যায়ে নাসির উদ্দিন অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপরও আসামিরা তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১টা ৪৮ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বাদী মোঃ সম্রাট আলী শান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন— মোঃ নিয়াজ আলী (৪৮), মোঃ মেহেদী হাসান (২৪) ও মোঃ রফিক (২৯)।পুলিশ ও র্যাব জানিয়েছে, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।









