শুক্রবার | ৩ জুলাই, ২০২৬ | ১৯ আষাঢ়, ১৪৩৩

হকির হ্যাটট্রিকম্যান আমিরুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

ভারতে চলমান জুনিয়র (অনূর্ধ্ব-২১) হকি বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স শো করেছেন বাংলাদেশের আমিরুল ইসলাম। এই প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স অতটা উজ্জ্বল না হলেও স্টিকের কারুকাজে সবার হৃদয় জয় করেছেন আমিরুল। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে খেলতে গিয়ে বিশ্বের নামি-দামি সব খেলোয়াড়ের ভিড়ে নিজেকে ব্যতিক্রমভাবে উপস্থাপন করেছেন এই তরুণ। বিশ্বকাপে প্রথম ছয় ম্যাচে পাঁচটি হ্যাটট্রিক করেন। পুরো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৮টি গোল করেন তিনি। জিতেছেন তিন ম্যাচে সেরার পুরস্কার। বিশ্বকাপে এমন পারফরম্যান্স যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য স্বপ্নের মতোই। ২০ বছর বয়সি আমিরুল বিশ্বকাপে যা করে দেখালেন, সেটি দেশের হকির অনন্য ইতিহাস।

বিশ্বকাপে পুল পর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আমিরুল-ঝলক শুরু। অস্ট্রেলিয়া কঠিন প্রতিপক্ষ আর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ। সব মিলে ম্যাচটি অনেক কঠিন হবে, সেটি আগেই জানা ছিল। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচটিতে ৫-৩ গোলে বাংলাদেশ হারলেও আমিরুলের হ্যাটট্রিক করে সবাইকে চমকে দেন। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র করার ম্যাচেও সব গোলই একাই করেন আমিরুল। পুল পর্বের পর তার জাদুকরি পারফরম্যান্স অব্যাহত থাকে স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও। ওমানকে ১৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে হ্যাটট্রিকসহ একাই পাঁচ গোল করেন এই ডিফেন্ডার। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচেও আমিরুল গোল করেছেন। বিশ্বকাপে তার স্টিকের কারুকাজে মুগ্ধ হকি বিশ্ব। বাংলাদেশের হকির ‘হামজা’ বলা হচ্ছে তাকে। অথচ বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগে আমিরুলের নাম ছিল আড়ালে। পারফরম্যান্সের দ্যুতি ছড়িয়ে বাংলাদেশের হকি অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন তুললেন আমিরুল। তার খেলা দেখে বিস্মিত হয়েছেন সাবেক হকি খেলোয়াড় রফিকুল ইসলাম কামাল। তিনি বলেন, ‘আমিরুল অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। সব নামি-দামি খেলোয়াড়দের ছাপিয়ে গেছে। বিশ্বকাপে গিয়ে এত গোল একজন খেলোয়াড়ের জন্য স্বপ্ন হতে পারে। পাঁচ হ্যাটট্রিক আর তিনটি ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া সহজ কথা নয়। আমি মনে করি, এই রকম আমিরুল যদি আর দুই-চারটা আসে, তাহলে বাংলাদেশের হকি পুরোপুরি বদলে যাবে। দেশের হকি অনেক এগিয়ে হবে। আমি সরকারকে অনুরোধ করব, এই রকম পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করা দরকার। কেননা হকি খেলোয়াড়রা সব সময় বঞ্চিত থাকে। তাদের সরকার মূল্যায়ন করবে।’

যুব দলে মাত্রই শুরু করেছেন আমিরুল। ভবিষ্যতে সিনিয়র দলের হয়ে আরো বেশি ভালো করতে পারেন এই তরুণ। রফিকুল ইসলামের প্রত্যাশাও এটি, ‘তার মাত্র শুরু হলো। বিশ্বকাপে যে পারফরম্যান্স করেছে সে, সেটি তাকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। তবে তাকে বেশি চাপ দেওয়া উচিত হবে না। আরেক বিষয়, জুনিয়র আর সিনিয়র লেভেলের খেলা এক নয়। আমিরুলসহ এই রকম প্রতিভাবান ও সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের যদি বিদেশের পাঠিয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া যায় তাহলে হকির উন্নতি হবে।’ অনূর্ধ্ব-২১ দলে আমিরুলকে কোচিং করিয়েছেন মামুনুর রশিদ মামুন। এই কোচও আমিরুলের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন। আমার দেশকে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলে আমার ক্যাম্পে সে ছিল। অনেক খেলোয়াড় জাতীয় দলে আসে সুযোগ পাওয়ার জন্য। সুযোগ পেলেই তারা গর্ববোধ করে। এক্ষেত্রে আমিরুল ছিল ব্যতিক্রম। সে খেলার জন্যই দলে এসেছিল। বিশ্বকাপে যে পারফরম্যান্স দেখাল সে, সেটি তাকে সামনে এগিয়ে যেতে আরো অনুপ্রাণিত করবে। তাকে আমি বাহবা দিই।’

বিশ্বকাপে তাক লাগানো নিজের পারফরম্যান্সে তৃপ্ত হলেও দলীয় পারফরম্যান্সের জন্য আক্ষেপ আমিরুলের, ‘যদিও বিশ্বকাপের মতো আসরে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলা সহজ নয়। পুল পর্বে আমরা কোরিয়ার বিপক্ষে ড্র করেছি, ওমান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে (স্থান নির্ধারণী ম্যাচে) হারিয়েছি, এটাও প্রাপ্তি। তবু শেষ ষোলো দলের মধ্যে থাকতে না পারার আক্ষেপটুকু থেকে যাবে।’ জুনিয়র বিশ্বকাপে যেভাবে পারফরম্যান্স করেছে বাংলাদেশ, সেটি সিনিয়র বিশ্বকাপেও টেনে নিতে চান আমিরুল। তিনি বলেন, ‘২০২২ সালে জাতীয় দলে সুযোগ পাই; এশিয়ান গেমস দিয়ে। জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার মুহূর্তটি ছিল অসাধারণ। গর্বের। এত দিন যে জার্সি গায়ে জড়ানোর জন্য পরিশ্রম করেছি, সেটা পাওয়ার আনন্দ আসলে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। এখন সিনিয়র টিমের বিশ্বকাপে ভালো করতে চাই।’

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD