রাজবাড়ীর কালুখালীতে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ মোছাঃ মীম আক্তারকে (১৮) নির্মমভাবে নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
পরবর্তীতে এ ঘটনাকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।এ ঘটনার বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে কালুখালী উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে নিহত মীমের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় শত শত মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা ব্যানার ও প্লাকার্ড হাতে নিয়ে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
আদালতের নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, রাজবাড়ীর বোয়ালিয়া গ্রামের মোঃ আলামিন মণ্ডলের কন্যা মীম আক্তারের সাথে পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামের মোঃ আলিম কাজীর ছেলে মোঃ পান্নু কাজীর (২২) বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মোট ২ লক্ষ টাকার উপহার প্রদান করা সত্ত্বেও বিয়ের পর থেকেই স্বামী পান্নু কাজী অতিরিক্ত ২ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে মীমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে শুরু করে। নির্যাতনের একপর্যায়ে মীমকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হলে এবং যৌতুক না দিলে তালাক দেওয়ার হুমকি দেওয়া হলে তিনি নিজেই বাদী হয়ে আদালতে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় একটি মামলা (সি.আর মামলা নং-২২২/২৫) দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর আসামিরা মীমের পরিবারের সাথে আপোষ-মীমাংসা করে তাকে পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যায়। তবে কিছুদিন না যেতেই আবারও যৌতুকের দাবি তোলা হয় এবং স্বামীর পরকীয়ার বিষয় জেনে ফেলায় মীমের ওপর নির্যাতন বহুগুণ বেড়ে যায়। গত ১৬ আগস্ট আসামিরা মীমকে বেধড়ক মারধর করলে তিনি প্রাণভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, যা স্থানীয় একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজেও ধরা পড়ে।
পরবর্তীতে ১৭ আগস্ট দুপুরে আসামিরা যোগসাজশ করে মীমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে লাশ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করলে বাধ্য হয়ে নিহত মীমের বাবা আলামিন মণ্ডল বিজ্ঞ কালুখালী আমলী আদালতে পুনরায় হত্যা মামলা (সি.আর মামলা নং-৩৪০/২৪) দায়ের করেন।
মানববন্ধনে অশ্রুসজল কণ্ঠে নিহত মীম আক্তারের মা-বাবা ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যৌতুকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেও শেষ পর্যন্ত মেয়েটিকে বাঁচানো গেল না।
তারা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে প্রধান অভিযুক্ত স্বামী পান্নু কাজীসহ জড়িত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার ও তাদের ফাঁসি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।









