জেলায় এই বছর বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি লক্ষ্য করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী। বিগত ৫-৬ বছরে এত বৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাগুলো সংস্কার না হওয়ায় ভাঙা সড়ক, খানাখন্দ, কাদা ও জলাবদ্ধতা জনজীবনকে দূর্বিষহ করে তুলেছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভ্যন্তরীন রাস্তাগুলোর দুরবস্থা এখন চরমে পৌঁছেছে। রাস্তা সংস্কারের অভাব,নির্মাণধীন ভবনের ভারী যানবাহনের চলাচল এবং এবারের অধিক বৃষ্টিপাকের রাস্তা গুলো কাদা পানি ও গর্তে ভরে গেছে। ফলে সকল শিক্ষার্থীরা, শিক্ষক, সব শ্রেণির কর্মচারী এবং স্থানীয় পথচারীদের দৈনন্দিন জীবন যাত্রা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হাঁটা চলা তে চরম ঝুঁকি ও অসুবিধা সহ্য করতে হচ্ছে সকলকে। এই বছর রাজশাহী বিভাগে তুলনামূলকভাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি হয়েছে। ফলে, রাস্তাগুলোর অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। শুকনো মৌসুমে কোন রকমে চলাচল সম্ভব হলেও, বর্ষায় সাদা জমে থাকায় পরিস্থিতির অসহ্য হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন যাবত রাস্তাঘাট সংস্কার বা মেরামত করা হয়নি। ৫ই আগস্টের পর পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর বিলুপ্ত হওয়ায় অনেকদিন যাবত রাস্তাঘাট ও ড্রেন সংস্কার করা হয়নি। এখনোও চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাঝে মাঝে রোদ থাকলেও অধিকাংশ সময়ই বৃষ্টির দেখা মিলেছে। কখনো হালকা তো কখনো ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। গতবারের তুলনায় এবার জানুয়ারি থেকে আগস্ট ৮ মাস পর্যন্ত প্রায় দ্বিগুন বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে অধিক বর্ষার ফলে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার পাকা রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৩০ থেকে ৩২ কিলোমিটার এবং একশ কিলোমিটারের বেশি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির গ্রামীণ রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও চার পৌরসভারও কিছু রাস্তা খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যেসব রাস্তার পাশে ড্রেন নেই কিংবা ড্রেন থাকলেও অকেজো অবস্থায় রয়েছে সেইসব এলাকার রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে পিচ কার্পেটিংসহ ইটখুয়াও উপড়ে গেছে। অনেক জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়া রাস্তাগুলোয় যানবাহন চলাচলের জন্য ইটের ভাঙাড়ি ও কোথাও কোথাও খুয়াবালু দিয়ে মেরামত করা হয়েছে। রাস্তাগুলো নষ্ট হওয়ায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্ত (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন আলাপকালে জানান, প্রায় ৮০ থেকে ১শ কিলোমিটার রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। মাফজোক করা হচ্ছে। এস্টিমেট করা হচ্ছে, বরাদ্দ সাপেক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা গুলো মেরামত করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা. নাহিনুর রহমান জানান, এবার বর্ষায় ৩০ থেকে ৩২ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতি হয়েছে। তবে জরুরি ভিত্তিতে সেগুলো প্রাথমিকভাবে মেরাত করা হয়েছে। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বৃষ্টিপাতের রেকর্ডকৃত পরিসংখ্যাণ থেকে জানা যায়, গতবছর আগস্ট মাস পর্যন্ত জেলায় গড় বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল ৭৯৭ মিলিমিটার। অপরদিকে এবার ওই একই সময়ে অর্থাৎ আগস্ট মাস পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১২৮৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার। গতবছর জানুয়ারি মাসে কোনো বৃষ্টি হয়নি। ফেব্রুয়ারি মাসে ১৬ মিলিমিটার, মার্চ মাসে ৫০ মিলিমিটার, এপ্রিলে কোনো বৃষ্টি হয়নি, মে মাসে ১৩৩ মিলিমিটার, জুনে ৩৫ মিলিমিটার, জুলাই মাসে ২৫৭ মিলিমিটার,আগস্ট মার্সে ৩০৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে এবছর জানুয়ারি মাসে কোনো বৃষ্টি হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে ২ মিলিমিটার, মার্চ মাসে ৩ দশমিক ৪ মিলিমিটার, এপ্রিল মাসে ৫৪ মিলিমিটার, মে মাসে ২৯১ মিলিমিটার, জুনে ২৩৭ মিলিমিটার, জুলাই মাসে ৪৩৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং গত আগস্ট মাসে বৃষ্টি হয়েছে ২৪৩ দশমিক ৪ মিলিমিটার। তাই প্রশাসনের কাছে চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী দাবি অতি দ্রুতই রাস্তা সংস্কার করা।









