নিখোঁজের চার দিন পর চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান (১৯) নামে এক কলেজছাত্রের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলার দাদসী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে বাড়ির কাছের একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রোহান রঘুনাথপুর গ্রামের ফরহাদ চৌধুরীর ছেলে। তিনি রাজবাড়ী শহরের একটি বেসরকারি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে খাবারের সময় রোহানের মুঠোফোনে একটি কল আসে। খাবার খেয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার ফোনে কল করেন। তখন তার দুটি মুঠোফোনই বন্ধ পাওয়া যায়। একটি অ্যান্ড্রয়েড ও অপরটি বাটন ফোন ব্যবহার করতেন রোহান।
আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজবাড়ী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরের একটি ডোবায় বস্তা ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। বস্তা থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সন্দেহ হলে স্থানীয়রা লাঠি দিয়ে বস্তায় ধাক্কা দেন। এ সময় বস্তার ভেতর থেকে মানুষের পা বেরিয়ে আসে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মুনির হোসেন বলেন, মরদেহ একটি বস্তার ভেতরে রাখা হয়েছিল। আরেকটি বস্তায় মাটি ভরে মরদেহের বস্তার সঙ্গে বেঁধে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহ ফুলে ওঠার পর বস্তাটি পানিতে ভেসে উঠলে স্থানীয়রা দেখতে পান।
তিনি বলেন, গত ৫ অক্টোবর থেকে রোহান নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছে। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনের তথ্য, পারিবারিক বিরোধ, প্রেমঘটিত কোনো বিষয় ছিল কি না এবং বন্ধুদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, “এখনও হত্যার কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।”
নিহত রোহানের দাদা মরহুম রোকন উদ্দিন চৌধুরী রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার ফুফাতো ভাই আরিফুল ইসলাম রোমান জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক।









