সোমবার | ১৮ মে, ২০২৬ | ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

স্থানীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে দলগুলোর সমঝোতা জরুরি: সিইসি

স্টাফ রিপোর্টার

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, সহিংসতামুক্ত ও গ্রহণযোগ্য করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

সোমবার (১৮ মে) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আরএফইডির নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সিইসি বলেন, অতীতে স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ, সহিংসতা ও প্রাণহানির যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেন ‘কারবালার পরিস্থিতি’ সৃষ্টি না করে, সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সংযম ও সহনশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বহু হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত তীব্র হয়ে ওঠে। একই পরিবার বা একই এলাকার প্রার্থীদের মধ্যেও সংঘাত দেখা দেয়। এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে রক্তপাতহীন নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, এবার দলীয় প্রতীক ব্যবহার না হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, যা নির্বাচনকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। আমরা চাই, ভালো নির্বাচনের একটি সংস্কৃতি চালু হোক। শুধু একটি নির্বাচন নয়, ভবিষ্যতের সব নির্বাচনই যেন সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একা কোনো নির্বাচন সফল করতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক ও ভোটারসহ সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের পূর্ণ সহায়তার কথাও তুলে ধরেন সিইসি। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে আসছে। প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান সংস্কার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুটি রাজনৈতিক দল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা সম্ভব নয়।

সিইসি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার না হলেও গণমাধ্যমে দেখছি, বিভিন্ন দল ইতোমধ্যে মনোনয়নের ঘোষণা দিচ্ছে। এটা আমার জন্য চিন্তার বিষয়। যদি সবাই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করত, তাহলে দলের মালিকানা বা প্রভাব থাকত না, দলীয় কোন্দলও কম হতো। এ কারণে আমি মনে করি, দলগুলোর নিজেদের মধ্যে বসে বিষয়গুলো মীমাংসা করা উচিত। আমাদের সহায়তা থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘একটি নির্বাচন ভালো হয়েছে মানেই এই নয় যে বাংলাদেশের সব নির্বাচন সবসময় ভালো হবে। আমরা ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করতে চাই। শুধু একটি নয়, সব নির্বাচনই যেন ভালো হয়। নির্বাচনের ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে দলগুলোও নিজেদের মধ্যে বসুক। আমরা চাই, সত্যিকার অর্থে শতভাগ ভালো একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীকে হবে না, তাই কিছু বিধিবিধান সংস্কার করতে হবে। এ নিয়ে কাজ শেষ করে আমরা সরকারের সঙ্গে বসব। সরকার এ বছরের মধ্যেই নির্বাচন শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তবে এসব প্রস্তুতিতে সময় লাগে।’

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী এবং ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার-বিজেসির চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ বক্তব্য দেন।

এ সময় আরএফইডির সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ-দৌলার নেতৃত্বাধীন ১ মার্চ নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD