৩১ জুলাই সন্ধ্যায় ঢাকার আগারগাঁও এলজিইডি মিলনায়তনে ঢাকাস্থ রাজবাড়ী জেলার পাংশা- কালুখালী উপজেলা সমিতি কর্তৃক আয়োজিত গুণীজন সংবর্ধনা ও ছাত্র-ছাত্রীর বৃত্তিপ্রদান অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাংশার সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোঃ আবু হেনা, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা প্রফেসর ডক্টর মো: রাশেদ আল-মাহমুদ তিতুমীর, রাজবাড়ী ২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ, রাজবাড়ী জেলা সমিতির সভাপতি সাবেক সচিব ও পিএসসির সাবেক সদস্য মোঃ শাহজাহান আলী মোল্লা, মেজর অবসরপ্রাপ্ত জুলফিকার হোসেন চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত সচিব রামচন্দ্র দাস, যুগ্ম সচিব ইকবাল হুসাইন, উপসচিব ওবায়দুর রহমান, উপসচিব মু: শরিফুল হক, এলজিইডি’র প্রকল্প পরিচালক আতিকুল হক, ঢাকা ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সহ রাজবাড়ী জেলার বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ।
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কৃতি সন্তান, পাংশা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আরশেদ আলীর সুযোগ্য সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ডঃ রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও রাজবাড়ী – ২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ হারুনুর রশিদকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ মহা পরিদর্শক ও সমিতির সভাপতি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন-আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি, যাদের ত্যাগ ও অবদানে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। তিনি বলেন গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তার সুযোগ্য পুত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণ হবে বলে তিনি জানান। আরো বলেন, আমি যে দায়িত্বে আছি সেখানে বসে আমি কোন নির্দিষ্ট এলাকার উন্নয়নের কথা বলতে পারি না, আমি সমগ্র বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছি। তবে রাজবাড়ী জেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং বলেন, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভয়াবহ মাদকের ছোবল থেকে বাঁচতে তিনি রাজবাড়ী জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলার উপযোগী মাঠ নির্মাণ এবং প্রতি ইউনিয়নের কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগের কথা জানান। সমিতির স্থায়ী অফিসের জন্যেও তিনি সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।
এমপি হারুন অর রশিদ বলেন- সুখে-দুখে আমি আপনাদের পাশে আছি। কোন অন্যায়কে আমি প্রশ্রয় দিব না এবং এলাকার উন্নয়নে আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সেগুলো আমি যথাযথ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং সেইগুলো করব ইনশাল্লাহ। বৃত্তি পাওয়া ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা বৃত্তি পেয়েছে তাদেরকে ধন্যবাদ, যারা বৃত্তি পায়নি আশেপাশের মানুষগুলো যদি সার্বিকভাবে তাদের সহযোগিতা করেন তারাও ভালো করতে পারবেন। সেই ব্যাপারে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সকলের প্রতি অনুরোধ করেন। এছাড়াও তিনি বলেন, আপনাদের দীর্ঘদিনের তিলে- তিলে গড়া পাংশা- কালুখালী উপজেলা সমিতির একটি স্থায়ী অফিসের জন্য যতটুকু সম্ভব আর্থিক সহযোগিতা আমি করবো ইনশাআল্লাহ।
মোহাম্মদ আবু হেনা বলেন- অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা তিতুমীরের পিতা পাংশা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আরশেদ আলী আমার অত্যন্ত কাছের মানুষ। তিতুমীর এবং হারুন ওদের দুজনকে আমি খুব ভালো করে চিনি এবং ওরা এলাকার জন্য ভালো কিছু কাজ করেছে যা আমি এই ছয় মাসেই দেখতে পেয়েছি।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন- আমি কয়েকবার এই সমিতি থেকে বৃত্তি গ্রহণ করেছি। আমি স্বপ্ন দেখতাম আমি একদিন যদি এভাবে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে এই পুরস্কার দিতে পারতাম! আজ আমার সেই স্বপ্ন সফল হয়েছে এবং আমি নিজেকে খুবই গর্বিত মনে করছি। সেই সাথে আমি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই, যারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন এবং দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে সমগ্র অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমন্ডিত করেছেন তাদের সকলকে।
পাংশা – কালুখালী উপজেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মুরাদ, বৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর সরদার বাবলু সহ সকল কার্যনির্বাহী সদস্যরা নিরলশ ভাবে কাজ করে অনুষ্ঠানটি সফল ভাবে সম্পন্ন করেছেন। বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সমাপ্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পাংশা এবং কালুখালী উপজেলার অনেকেই বলেন-
এরকম একটা দিনের জন্য আমরা অপেক্ষায় থাকি, যেনো একই ছাঁদের নিচে আমাদের একটা মিলনমেলা অত্যন্ত সুন্দর ও সফল হবে অনুষ্ঠিত হয় এবং একে অপরের কাছে আসতে পারি।









