মিরসরাই দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরি থেকে লরি চালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় ফারদিন মডেল পাম্পের সামনে পার্কিং করা লরি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ওই লরি চালকের নাম জামাল উদ্দিন (৫৬)। সে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার উত্তর চর আইচা এলাকার মৃত মুনাফ বেপারীর ছেলে।
চালকের সহকারী বেলাল হোসেন বলেন, ভোর ৩টার দিকে সিলেটের শেরপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে পণ্যবোঝাই লরিটি (চট্ট মেট্রো- ঢ-৮১২৭৪৩) রওনা দেয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উজানিসার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে সরু সড়কের কারণে গাড়ির গতি কমে যায়। এ সময় ৪ থেকে ৫ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা প্রথমে গাড়ির সামনের গ্লাস ভাঙচুর করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চালক জামাল উদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
বেলাল হোসেন বলেন, গুরুতর আহত হওয়ার পরও চালক তাকে কোনো স্থানে না থেমে গাড়ি চালিয়ে যেতে বলেন। তিনি আতঙ্কিত অবস্থায় লরি চালিয়ে ফেনী পর্যন্ত পৌঁছান। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পথেই চালক জামাল উদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরে বিষয়টি অন্য চালকদের জানিয়ে লরিটি মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জের ফারদিন মডেল পাম্প এলাকায় নিয়ে আসেন।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ লরি থেকে চালকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহতের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, তারা আসলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আওতাধীন এলাকায় সংঘটিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানা মামলাসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।









