ময়মনসিংহের ভালুকায় এক্সিল্যান্ড সিরামিক্স গ্রুপের নির্মাণাধীন ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) ট্যাংকে কাজ করতে নেমে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের পাড়াগাঁও বড়চালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
শ্রমিকরা হলেন- খুলনার কয়রা উপজেলার নক্সা-আমাদী গ্রামের ফারুক গাজীর ছেলে মেকানিক্যাল ওয়েল্ডার শফিকুল ইসলাম এবং নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার বল্লী গ্রামের কুহিল মিয়ার ছেলে রুমেল।
সহকর্মী শ্রমিকদের ভাষ্য, শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে রুমেল ইটিপি প্ল্যান্টের ট্যাংকে নামার পর ভেতরে অক্সিজেনের ঘাটতিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে বাঁচাতে ট্যাংকে নামেন শফিকুল ইসলাম। কিন্তু তিনিও একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে অচেতন হয়ে যান। পরে শ্রমিকরাই নিজেদের উদ্যোগে মই ব্যবহার করে দুজনকে ট্যাংক থেকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর সাধারণ শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পরও কারখানা কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্ধার তৎপরতায় এগিয়ে আসেনি। দীর্ঘ সময় দুই শ্রমিক ট্যাংকের ভেতরে পড়েছিলেন। এছাড়া হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও অযথা বিলম্ব করা হয়েছে। তাদের দাবি, সময়মতো উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে হয়তো প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এক্সিল্যান্ড সিরামিক্স গ্রুপের স্যানিটারি প্ল্যান্টের প্রধান অবিনাশ কুন্ডু। তিনি বলেন, নিহতরা প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী শ্রমিক ছিলেন না। ঠিকাদারের অধীনে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। উদ্ধারকাজে অবহেলার অভিযোগও সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শিল্প পুলিশ ময়মনসিংহ-৫-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গুপিনাথ কাঞ্জিলাল বলেন, ঘটনার সব দিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি বা উদ্ধারকাজে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









