ঢাকার আশুলিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী সীমা আক্তারকে গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামী মো. রেজাউল করিম মাদবরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি রেজাউল করিম মাদবর পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জিয়াউল হক জিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রায়ে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৮ ধারার বিধান অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে উক্ত দণ্ডাদেশ কার্যকর করার আদেশ দেন। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী মামলার যাবতীয় নথিপত্র (কেস রেকর্ড ও ডেডিকেটসহ) অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।
তিনি আরো বলন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আগামী সাত দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত সীমা আক্তার তার স্বামী ও শিশুসন্তান রূপাকে নিয়ে আশুলিয়ার ইদ্রিস কলেজ রোডের আফাজ উদ্দিনের ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। সীমা স্থানীয় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতেন। অন্যদিকে আসামি রেজাউল করিম কোনো কাজ করতেন না। কাজ করার কথা বললে প্রায়ই সীমাকে মারধর করতেন।
২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল ভোরে পারিবারিক কলহের জেরে আসামি রেজাউল করিম তার স্ত্রী সীমার মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি পড়ে গেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করেন স্বামী। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির মালিক আফাজ উদ্দিন ও স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে আটক এবং পুলিশে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা মো. জাহিদুল ইসলাম।
আশুলিয়া থানার পুলিশ তদন্ত শেষে বিগত ৩১ আগস্ট ২০১৬ তারিখে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।









