আইনের চোখে তিনি একজন হত্যা মামলার আসামি, কিন্তু এক অবুঝ প্রাণীর কাছে তিনিই তার পুরো পৃথিবী।
রায়পুরে কিশোর অটোরিকশাচালক রাজিব হত্যার প্রধান আসামি গিয়াস উদ্দিন যখন পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন, তখন তার সাথে ছিল রাজা নামের দীর্ঘ ৪-৫ বছরের সঙ্গী পোষা বানর। মালিককে যখন হাজতখানায় বন্দি করা হয়, তখন মুক্ত অবস্থায় থানা চত্বরে রাখা হয়েছিল রাজাকে। চাইলেই সে অরণ্যে বা লোকালয়ে হারিয়ে যেতে পারতো, কিন্তু মালিকের টানে সারারাত নির্ঘুম কাটিয়ে মমতার এক অনন্য নজীর স্থাপন করলো এই নির্বাক প্রাণীটি।
গত শুক্রবার রাতে রায়পুরের চর আবাবিল ইউনিয়নে ১৪ বছর বয়সী কিশোর রাজিবকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার মূল নায়ক গিয়াস উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের পর তার প্রিয় বানর ‘রাজা’কে নিয়েই আত্মগোপনে চলে যান তিনি। গতকাল সোমবার রাতে চাঁদপুর সদরের ওয়্যারলেস এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পালিয়ে থাকার কঠিন দিনগুলোতেও গিয়াস তার পোষা প্রাণীটিকে হাতছাড়া করেননি, আর রাজাও তার মালিককে ছেড়ে যায়নি এক মুহূর্তের জন্য।
বানরসহ আসামিকে থানায় আনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায় রায়পুর থানায়। একদিকে মামলার গুরুত্ব, অন্যদিকে মালিকের জন্য রাজার ছটফটানি—সব মিলিয়ে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। থানা কম্পাউন্ডের ভেতরে রাজার অস্থির ছোটাছুটি সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ সদস্যদের। হাজতখানার শিকের ওপাশে থাকা মালিকের সান্নিধ্য পেতে রাজার এই আকুলতা উপস্থিত সবার মনে বিষাদমাখা এক বিস্ময় তৈরি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর রাজিবের বাবার দায়ের করা মামলায় গিয়াস উদ্দিনকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। তবে তার সঙ্গী এই রাজাকে রাখা হবে না কোনো খাঁচায়। ওসি জানিয়েছেন, মানুষের ভালোবাসায় বেড়ে ওঠা এই বানরটিকে শীঘ্রই বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মালিকের অপরাধের দণ্ড হয়তো আদালত দেবে, কিন্তু রাজিবের পরিবারের শূন্যতা আর মালিকের জন্য রাজার এই দীর্ঘশ্বাস—মানবতা ও পশুত্বের এক অদ্ভুত বৈপরীত্য হয়ে দাগ কেটে গেল রায়পুরবাসীর মনে।









