জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুব শক্তি’ শরীয়তপুর জেলা শাখা ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। শনিবার রাতে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় ক্ষোভ, অসন্তোষ আর পদত্যাগ।
রোববার বিকেল নাগাদ কমিটির সদস্যসচিব আমিন মোহাম্মদ জিতুসহ পাঁচজন নেতা একে একে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সবাই সামাজিকমাধ্যমের নিজেদের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার রাত ৯টার দিকে নতুন কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। তাতে আহ্বায়ক করা হয় কাওসার মৃধাকে, আর সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয় তরুণ সংগঠক আমিন মোহাম্মদ জিতুকে। কমিটি ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই জিতু তার ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এরপর আহ্বায়ক মো. কামাল হোসেন সরল, যুগ্ম সদস্যসচিব সাবরিন ইসলাম, সংগঠক রবিউল হাসান ও যুগ্ম সদস্যসচিব রেজাউল করিম আদিব পদত্যাগ করেন।
তাঁদের স্ট্যাটাসগুলোয় ছিল হতাশা, ক্ষোভ আর উপেক্ষার ইঙ্গিত। কেউ বলছেন’সম্মান না থাকলে পদ অর্থহীন’। কেউ লিখছেন,’নিজের ঘাম ও শ্রমের মূল্য না পেলে নেতৃত্বে থাকা যায় না’। কেউ আবার দাবি করছেন, ‘নিজেদের অজান্তে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে নতুন কমিটিতে’।
যুব সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, গত রাতেই কেন্দ্রীয় কমিটি এক বছরের জন্য অনুমোদন দেয় শরীয়তপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটি। পুরনোদের সঙ্গে কিছু নতুন মুখকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু ঘোষণার ধরন এবং নামের ক্রম–এই দুইটি বিষয় নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়।
প্রথম পদত্যাগী সদস্যসচিব আমিন মোহাম্মদ জিতু বলেন, আমি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি। সংগঠনের কাজে কোনো বিঘ্ন না ঘটুক এই ভাবনা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত।
তবে অন্যদের বক্তব্য ভিন্ন সুরে। যুগ্ম সদস্যসচিব রেজাউল করিম আদিব লিখেছেন, একজন কর্মী যখন নিজের শ্রম ও বিশ্বাস দিয়ে সংগঠনকে বড় করে তোলে, তখন সে পদ নয়, সম্মান প্রত্যাশা করে। সেই সম্মান না পেলে পদমর্যাদা অর্থহীন।
যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল হোসেন সরল বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেও প্রত্যাশিত সম্মান পাইনি। তাই পদত্যাগই শ্রেয় মনে করেছি।
এদিকে জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ডা. জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, শরীয়তপুরে পাঁচজন সদস্য পদত্যাগ করেছেন বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। খোঁজ নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি সংগঠনের ভেতরে জমে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। কমিটি ঘোষণার ধরন ও নেতৃত্ব নির্বাচনে স্বচ্ছতার অভাবই এই ভাঙনের মূল কারণ হতে পারে।
এনসিপি যুব শক্তির স্থানীয় নেতারা বলছেন, সংগঠনটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাটিতে গড়ে উঠেছিল। কিন্তু নতুন কমিটি ঘোষণার ধরন সেই আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।









