ফুটবল মাঠে শুধু বল আর গোল নয়, কখনো কখনো লড়াই হয় ইতিহাস আর আবেগের। ১৯৮২-এর যুদ্ধের ক্ষত এখনো শুকায়নি, ১৯৮৬-এর ‘হ্যান্ড অব গড’ এখনো ইংলিশদের মনে জ্বালা ধরায়। সেই চিরবৈরিতার আগুনে এবার ঘি ঢালছে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড এই ম্যাচকে ঘিরে ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তা ছড়িয়ে পড়েছে মাঠের বাইরেও।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচকে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ম্যাচ বলে চিহ্নিত করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। গত সপ্তাহে মিয়ামিতে নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পর থেকেই দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এবার হাজার হাজার দর্শকের আগমনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে নজিরবিহীন
৬৮,২৩৯ ধারণক্ষমতার আটলান্টা স্টেডিয়ামে দুই দলের সমর্থকদের জন্য আলাদা প্রবেশপথের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে গ্যালারিতে তাদের পুরোপুরি আলাদা রাখা সম্ভব হয়নি। সংঘর্ষ এড়াতে শহরের কিছু বার ও রেস্তোরাঁ শুধু ইংল্যান্ড সমর্থকদের জন্য এবং কিছু শুধু আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য বরাদ্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
টিকিটের দামও আকাশছোঁয়া। ফিফার অফিশিয়াল পুনর্বিক্রয় সাইটে সর্বোচ্চ ৩,৭০০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি) পর্যন্ত উঠেছে একেকটি টিকিটের দাম।
১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস (আর্জেন্টিনায় যাকে মালভিনাস বলা হয়) যুদ্ধের স্মৃতি এখনো দুই দেশের সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি করে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’-এ ইংল্যান্ডকে হারানো, ১৯৯৮-এ বেকহামর লাল কার্ড। এসব ঘটনা এখনো ফ্যানদের আবেগে ঘি ঢালে।
সম্প্রতি আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দের একটি ড্রেসিংরুম ভিডিওতে ‘লাস মালভিনাস, পর দিয়েগো অ্যান্ড পর লা আলতিমা দে লিও’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। অর্থাৎ ফকল্যান্ডসের জন্য, ম্যারাডোনার জন্য এবং লিও মেসির শেষ বিশ্বকাপের জন্য। এতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কিরিনো এই সপ্তাহে ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবি নতুন করে জানিয়েছেন। তবে দাঙ্গা এড়াতে বুয়েনস আইরেস সরকার যুক্তরাজ্য, এফবিআই ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে।
স্টেডিয়ামে ফকল্যান্ডস-সংক্রান্ত কোনো ব্যানার, বিশেষ করে আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে আঁকা দ্বীপের মানচিত্র বা ‘মালভিনাস’ লেখা কোনো প্ল্যাকার্ড দেখলেই তা বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তারক্ষীদের।
ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকার তার পডকাস্টে দ্বীপটিকে ‘মালভিনাস’ নামে উল্লেখ করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবে লিনেকার অনড়। তিনি বলেন, “আর্জেন্টিনায় তো এটাকে এই নামেই ডাকা হয়। আমি শুধু তথ্যগতভাবে সঠিক শব্দটিই ব্যবহার করেছি।”









