রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফরোজা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে সেবা নিতে আসা অনেকেই নানা অভিযোগ করেছেন। প্রভাব বিস্তার করে তিনি তার নিজের এলাকা গোয়ালন্দের লোকজনকে ডেকে নিয়েও দেন নানা সুবিধা। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছ থেকে সুবিধা আদায় করে নেন এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফরোজা চৌধুরী। কালুখালি উপজেলার একজন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন- আমার অফিস থেকে ১টি টেন্ডারের বিজ্ঞাপন আফরোজা ফোন করে একটি পত্রিকাকে দিতে বলেন এবং বলেন ইউ এন ও স্যার বলেছেন। ওই কর্মকর্তা অভিযোগের সুরে বলেন- ২০ বছরের চাকরি জীবনে কোনদিন আমি এই অবস্থার মুখোমুখি হয়নি যে আমার অফিসের একটা বিজ্ঞাপন আমি আমার নিজের ইচ্ছামতো দিতে পারব না। এইসব কল-কাঠি নাড়ার পিছনে রয়েছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফরোজা চৌধুরীর হাত।
সম্প্রতি অফিসে বসে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে টাকা গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকাশিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, অফিস কক্ষে নিজের টেবিলে বসেই আফরোজা চৌধুরী এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। সেবাপ্রার্থীরা অভিযোগ করেন, সরকারি এই দপ্তরে ঘুষ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল, যা এই ভিডিওর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন জানান, বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









