গত শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি মতবিনিময়ের জন্য ঢাকাস্থ রাজবাড়ী জেলার সংস্কৃতিকর্মীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় শিল্পকলা একাডেমীতে।
চমৎকার পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সভায় রাজবাড়ী জেলার প্রায় শতাধিক সংস্কৃতিকর্মী উপস্থিত ছিলেন। শুরুতেই মাননীয় মন্ত্রী উপস্থিত সংস্কৃতিকর্মীদের সভায় অংশ গ্রহনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সবাইকে উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ দেন। উপস্থিত সংস্কৃতিকর্মীরা রাজবাড়ী জেলার সংস্কৃতি চর্চার নানা অসুবিধার কথা তুলে ধরেন।
পরিশেষে প্রতিমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার আলোকে সারাদেশেই একই ধরনের সমস্যা এবং স্থবিরতা বিরাজমান বলে স্বীকার করেন। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে দেশে শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ তৈরিতে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে শিশুদের সংস্কৃতিমনা হিসেবে গড়ে তোলার উপর জোড় দেন। সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমীর কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন এবং শিল্পকলা একাডেমীর খন্ডকালীন শিক্ষকদের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি করে দক্ষতাকে আরো বেশী কাজে লাগানোর সরকারের চিন্তার কথা উল্লেখ করেন।
একইভাবে রাজবাড়ী জেলাশহর ও বিভিন্ন উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমীর কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং অডিটোরিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা উল্লেখ করেন।
বরাবরের ন্যায় এবারও মাননীয় মন্ত্রী রাজবাড়ী টাউন হল থেকে ইয়াছিন উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত জায়গা জুড়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা কমপ্লেক্স নির্মাণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। যেখানে থাকবে আধুনিক অডিটরিয়াম, মুক্তমঞ্চ, আর্ট গ্যালারি, শিশুদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর রিহার্সাল করার সুযোগ সুবিধা, লাইব্রেরি, ফুডকোর্ট এবং একটি সাংস্কৃতিক যাদুঘর ইত্যাদি। আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারী থেকে কাজগুলো দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে তিনি দলমত নির্বিশেষে রাজবাড়ী জেলার সকল সংস্কৃতিকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সংস্কৃতি চর্চাকে আরো সমৃদ্ধ করার অনুরোধ জানান। যারা দেশের জাতীয় সম্পদ যেমন আসাদুজ্জামান নূর ,সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, কণ্ঠশিল্পী মমতাজ এদেরকে রাজনীতিতে আনা ঠিক হয়নি বলে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন। এছাড়াও ভয়ংকর জঙ্গিবাদ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনা শেষে রাজবাড়ী’র প্রিয়মুখ সংগীতশিল্পী কাকলী গুহ কেয়া’র উপস্থাপনায় শিল্পীদের পরিবেশনায় চমৎকার একটি সংগীত সন্ধ্যায় রূপান্তরিত হয়। উপস্থাপনার পাশাপাশি কেয়া একটি চমৎকার গানও পরিবেশন করেন।”যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তি সেনা, দে না তোরা দে না সে মাটি আমার অঙ্গে মাখিয়ে দেনা “এই গান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম গাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মিলনায়তনে সবাই হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানায়। ফকির সুমনসহ আরো অনেকেই সংগীত পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র পরিচালক বন্ধন বিশ্বাস, বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উপস্থাপক হুমায়ুন কবির নীরব (আর জে নীরব) রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত ভয়েজআর্টিস্ট টুকু মজনিউল, সংস্কৃতি সংগঠক নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট নাট্য প্রযোজক অতিরিক্ত সচিব ডক্টর রেজাউল করিম, বিজ্ঞাপনী সংস্থা Well Communication এর স্বত্বাধিকারী ,লেখক এবং ১ম শ্রেণীর বাংলা জাতীয় পত্রিকা “দৈনিক চিত্র”র সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ ইউনুছ আলী, চ্যানেল আই এর জেনারেল ম্যানেজার কায়সুল মোমিন কাকন, লেখক ও বিনোদন সাংবাদিক পান্থ আফজাল, নাট্য পরিচালক সুজিত বিশ্বাস সহ রাজবাড়ীর সাংস্কৃতি অঙ্গনে ঢাকায় বসবাসরত শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সহধর্মিণী’র উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে।
স্বল্প সময়ে রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের নিয়ে এমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতা করার জন্য চন্দন সান্যাল কে বিশেষ অভিনন্দন জানান উপস্থিত সদস্যবৃন্দ।









