চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। ২০২৬ সালের ফলাফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে। বোর্ডের ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সময়ে এটাই সর্বনিম্ন পাসের হার।
পাসের হার কমে যাওয়ায় এবার বোর্ডে ৫২ হাজার ৭৫৬ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। একই সঙ্গে গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২ হাজার ৪৪৫ জন। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের গত ১৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কোনো বছরই পাসের হার ৭৫ শতাংশের নিচে নামেনি। ২০১১ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ২০১২ সালে ৭৯ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৮৮ দশমিক ০৭ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৯১ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে ৮২ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে।
২০১৬ সালে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ২০১৭ সালে ৮৪ দশমিক ১৩ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৭৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৮ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ৮৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে।
২০২১ সালে বোর্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯১ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। এরপর ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সূত্রে জানা যায়, ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি অনাগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। পড়াশোনা ছেড়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে আন্দোলনমুখী হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব ফলাফলেও পড়েছে।
চট্টগ্রামের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি অমনোযোগী, বারবার পাঠ্যক্রমে সিলেবাসে, প্রশ্নপত্রের ধরনে নানারকম পরিবর্তন আনাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক প্রকার নেতিবাচক ধারণা জন্ম নেয়,যা তাদের ফলাফলে পড়ে।









