দেশে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ গবাদিপশু উদ্বৃত্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেন, দেশে কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত থাকায় বাইরে থেকে পশু আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্তে নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের কোরবানির জন্য দেশে প্রায় এক কোটি ২৩ লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। এর বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় এক কোটি এক লাখ। ফলে প্রায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। এই পরিস্থিতিতে অবৈধ বা চোরাইপথে পশু প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা দিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অবৈধভাবে গবাদিপশু প্রবেশ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কোরবানি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই সবাইকে বৈধ উৎস থেকে শরিয়তসম্মতভাবে কোরবানির পশু কেনার আহ্বান জানান তিনি। অবৈধ বা চোরাইপথে আসা পশুর কোরবানি বিষয়ে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ ও মুফতিরাই সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কোরবানির হাটে গবাদিপশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে মেডিকেল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে অসুস্থ পশুর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা, জ্বর পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে পশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
তিনি বলেন, হাট ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম দূর করা, ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতারণা রোধে সরকার সতর্ক রয়েছে। জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মো. শাহজামান খান, ডা. মো. বয়জার রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।









