লক্ষ্মীপুর কমলনগর উপজেলায় বজ্রপাতে হাফেজা লিমার নামে এক কিশোরীর মৃত্যু গঠনা গঠে।। স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশেই ক্ষেতে সয়াবিন কাটছিলেন স্বজনেরা। তাঁদের একটু দেখতে সয়াবিন ক্ষেতের আইলে গিয়ে বসেছিল ১৪ বছরের কিশোরী লিমা আক্তার। কিন্তু এক পলকের প্রলয়ংকরী বজ্রপাত সব ওলটপালট করে দিল। মুহূর্তেই নিথর হয়ে গেল কোরআনের হাফেজা লিমার দেহ। বিয়ের পিঁড়িতে বসলেও এখনো সংসার শুরু করা হয়নি তাঁর, তার আগেই পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের সাতধরুন এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত লিমা ওই এলাকার আবদুর রব হাওলাদার বাড়ির ইউছুফ আলী খোকনের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার মাস আগেই মাকে হারিয়েছে লিমা। মাতৃহারা মেয়েটির কথা চিন্তা করে বাবা ইউছুফ আলী দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং লিমাকেও বিয়ে দেন। তবে স্বামীর ঘরে যাওয়ার আগেই প্রকৃতির এক নিষ্ঠুর খেলায় প্রাণ হারাল সে।
লিমার চাচা মো. নিজাম বলেন, ‘আমরা সপরিবারে বাড়ির পাশের ক্ষেতে সয়াবিন কাটছিলাম। লিমা আমাদের দেখতে এসে আইলে বসেছিল। হঠাৎ তীব্র শব্দে আকাশ চমকে ওঠে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই লিমা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। দ্রুত উদ্ধার করে ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ওকে মৃত ঘোষণা করেন।’
স্থানীয়রা জানান, লিমা পবিত্র কোরআনের হাফেজা ছিলেন। তাঁর এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে সাতধরুন এলাকার বাতাস।
হাজিরহাট ইউনিয়নের স্থানীয় মেম্বার মো. আপেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বজ্রপাতে কিশোরীর মৃত্যুর সংবাদটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। অল্প সময়ের ব্যবধানে মাকে হারানো ও পরে লিমার এমন মৃত্যু পরিবারটিকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।









