শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে ফাতেহ আলীর মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথীকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা ভাটারা থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
শনিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইলামের আদালত এ আদেশ দেন।
গত ১৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. আমিনুর রহমান খাদিজাকে গ্রেপ্তার দেখানোর এই আবেদন করেন। আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে এবং গোপন সূত্রে জানা গেছে যে, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথী ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সরাসরি হামলায় জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি ভাটারা থানা এলাকার আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে হামলায় প্ররোচিত করেছিলেন বলে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং আসামি জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক হয়ে যাতে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে, সে জন্য তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তারের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, এই মামলার সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততা থাকায় তদন্ত কর্মকর্তা তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন করেছেন। যদিও এ সময় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
এ সময় বিচারককে উদ্দেশ্য করে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে বলেন, ‘এর চেয়ে আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলেন। আমার বাচ্চা আছে। বারবার মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি চাকরি করে চলি। এত টাকা কই পাব?’
খাদিজা ইয়াসমিন বিথী আরও বলেন, ‘আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। ছাত্রলীগ-যুবলীগের সঙ্গে জড়িত থাকব কীভাবে? শুধু বাবার কারণে আমাকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে।আমার ১৩ বছরের একটা মেয়ে বাচ্চা আছে। এর আগে আমি একটি মামলায় জামিন পাই। পরে আবার সাজানো মামলা দেয়। বারবার এত মামলা দেওয়ার কারণ কী, জানি না। আমি সেদিন আমার বাবাকে দেখতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। বাবা হিসেবে তাকে দেখতে যেতেই পারি। আমি জুলাইয়ের সময় পার্ট টাইম জবের জন্য সিলেটে গিয়েছিলাম।’
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশব্যাপী শুরু হওয়া কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলে আখ্যায়িত করলে শিক্ষার্থীরা দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ঘোষণা দেন। তৎকালীন সরকারের দলীয় নেতাকর্মী, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টার অংশ হিসেবে আসামিরাও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। ওই বছরের ৫ আগস্ট মামলার বাদী সোহেলী তামান্না আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নৈতিক সমর্থনে মিছিল নিয়ে বের হন। মিছিলটি ভাটারা থানার বাড্ডা এলাকায় পৌঁছালে এজাহারনামীয় আসামি ও আওয়ামী লীগের কর্মীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০-৩০০ জন সন্ত্রাসী লোহার রড, হকিস্টিক ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এতে হামলাকারীদের আঘাতে বাদী সোহেলী তামান্না গুরুতর আহত হন।
সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাদীর বাম হাতের কব্জি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার পিঠে ও কোমরে ইটের আঘাত লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হামলায় বাদী তার বাম হাতের কার্যক্ষমতা চিরতরে হারিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ভাটারা থানায় এ-সংক্রান্ত একটি মামলা রুজু করা হয়।









