সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। সমাজের মানুষের মূল্যবোধ নষ্ট হয়েছে। সংস্কৃতিকে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে সংস্কৃতিকে তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা নিয়ে বিকশিত করতে চাই। বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্যের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের ভিত্তিতে নতুন দিনের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের ৭৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতিকে জনগণের সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী সংস্কৃতি বিকাশে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেই আলোকে শিল্পকলা, গ্রন্থাগার, জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্বসহ সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রকে নতুনভাবে সাজানোর কাজ চলছে।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আইন, বিধি-বিধান, ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামো আধুনিকায়নের কাজ চলছে। যেখানে অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে সেগুলোও পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ, অনুশীলন ও ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে শিল্পের প্রতিটি শাখাকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, জেলায় শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কার্যক্রম সম্প্রসারণ, আধুনিক নাট্যকেন্দ্র (ড্রামাটিক সেন্টার), জাদুঘর প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নতুন গতি পাবে।
একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমকে স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি এ মাটির সন্তান, বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তার শিল্পকর্ম দেশের গৌরব। তার সৃষ্টিকর্ম ও অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে এবং তার স্মৃতিকে সংরক্ষণ করতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাম্প্রতিক চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমদু খৈয়ম বলেন, চীনের আনহুই প্রদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংস্কৃতি ও শিল্প নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। চীনের কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু রয়েছে। তবে বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য কোনো অংশে কম নয়।
তিনি বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং শিল্পচর্চার সীমাবদ্ধতা। চীনের অভিজ্ঞতা ও সেখান থেকে অর্জিত ধারণাগুলো কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বহুতল শিল্পকলা অ্যাকাডেমি গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শিল্পীদের সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ, প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের জন্য উন্নত অবকাঠামো নির্মাণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এটি মানুষের মনন ও মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম মাধ্যম। শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে মানবিক ও সৃজনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের নেতৃত্ব তাদের হাতেই। তাই ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে।
এর আগে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে অতিথিরা মনসুর উল করিমের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা শেষে জন্মদিনের কেক কাটা হয় এবং বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির নেতারাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা, শিক্ষক, শিল্পী, সাহিত্যিক, অভিভাবক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।









