বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্রের প্রবীণ অভিনেতা ও শিল্পী শামস সুমন আর নেই। মঙ্গলবার, (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ল্যাবএইডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। মৃত্যুর খবরে নিরুদ্যম হয়ে পড়েন অভিনেতার স্ত্রী ও তিন সন্তান [দুই পুত্র, এক কন্যা]।
দৈনিক চিত্রকে’কে শামস সুমনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম। এই সংগঠনেরই সহসভাপতি ছিলেন শামস সুমন। আজাদ জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরেই লিভারের সমস্যায় অসুস্থ ছিলেন শামস সুমন। গতকাল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই মারা যান।
গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক ও এই শতাব্দীর প্রথম দশকে বিটিভির নাটক ও প্যাকেজ নাটকের ব্যস্ত অভিনেতা ও শিল্পী ছিলেন তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তিনি মঞ্চনাটকে জড়িয়ে পড়েন। আবৃত্তি সংগঠন স্বননের সদস্যও ছিলেন তিনি। অবশ্য তারও আগে থেকে তিনি কাজ করতেন রেডিওতে।
দরাজ কণ্ঠের এই অভিনেতা কণ্ঠ দিয়েছেন শতাধিক বিজ্ঞাপনচিত্রেও।
মঞ্চ ও টেলিভিশনের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন বেশ কিছু চলচ্চিত্রেও। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘জয়যাত্রা’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘নমুনা’, ‘আয়নাকাহিনী’, ‘হ্যালো অমিত’। ২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য পার্শ্ব চরিত্রের সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। সর্বশেষ তাঁকে দেখা গেছে ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবিতে, পুলিশের ভূমিকায়। সুমন তার কন্ঠে ইত্যাদি থেকে শুরু করে একাধিক টেলিভিশন গাণ গেয়েছেন।
অভিনয়ে অনিয়মিত হওয়ার পর যোগ দেন চাকরিতে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কর্মরত ছিলেন রেডিও ভূমির স্টেশন চিফ হিসেবে। ছিলেন চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালকও। আজ সকাল ১০টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজা হবে। দাফন করা হবে রাজশাহীতে অভিনেতার পারিবারিক কবরস্থানে।









