নরসিংদীর চরাঞ্চলে আসামি ধরতে গিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের ৬ সদস্য। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর বীরগাঁও ও সাতপাড়া এলাকার তাহসি বেগম, খোররেশদ মিয়া, রহিম মিয়া ও সোহাগী।
পুলিশের দায়ের করা মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে নরসিংদী সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রামকৃষ্ণ দাস, উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান খান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল নোমান মুন্সি, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নাজমুল হোসেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সুমন মিয়া ও কন্সটেবল হাদিস মিয়া স্পিড বোর্ড যোগে আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর বীরগাও সাতপাড়া এলাকায় একটি মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার করতে অভিযানে যান। ওই সময় আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অনুমতি না নিয়ে গ্রামে ঢুকার কারণ জানতে চায়।
এ নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সাথে কথাকাটাকাটিতে জড়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হলে আওয়ামী লীগ নেতা হাবিব রহমান হাবিবের নেতৃত্বে শতাধিক লোক দলবদ্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া করে। পরে ব্যারিকেড দিয়ে ৬ পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালায়। ওই সময় পুলিশ সদস্যদের মারপিটসহ লাঞ্ছিত করা হয়।
খবর পেয়ে ঘটনার দিনই বিকেলে পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা, র্যাব, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৮০ সদ্যসের একটি টিম পুনরায় আলোকবালী ইউনিয়নের বাখন নগর বীরগাঁও ও সাতপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। ওই সময় দুই নারীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় এএসআই মো. নাজমুল হোসেন সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগ এনে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাবিব রহমান হাবিবকে প্রধান আসামি করে ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০০/১২০ জনকে আসামি করা হয়।
এদিকে পুলিশের উপর হামলার পর ৫ পুলিশ সদস্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এলাকার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী মহিলা জানান, হঠাৎ হৈ হৈ শব্দ শুনে রাস্তার সামনে যাই। গিয়ে দেখি হাবিব, মাইনুদ্দিনের দলের লোকেরা ধর ধর বলে কয়েক জনকে ধাওয়া দিচ্ছে। পরে তাদের ধরে কিল ঘুসি মারছে। তারা স্পিড বোডে উঠে মোবাইলে ভিডিও করলে পুনরায় তাদের লাঞ্ছিত করেন তারা। পরে আমরা জানতে পারে তারা পুলিশ সদস্য ছিল।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের চিকিৎসক গুলসান আরা কবির বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ৫ পুলিশ সদস্য চিকিৎসা নিতে সদর হাসপাতালে আসেন। আমরা যথারীতি তাদের চিকিৎসা দিয়েছি।
এ বিষয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এ আর এম আল মামুন বলেন, একটি মামলার তদন্ত ও ৪টি গরুর হাট পরিদর্শন করতে পুলিশ সদস্যরা আলোকবালীতে যায়। সেখানে যাওয়ার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা পুলিশের কাজে বাধা দেয়। পরে তাদের ফোর্স বাড়িয়ে বিকেলে পুনরায় অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নরসিংদী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, পুলিশকে মারধর কিংবা লাঞ্ছিতের ঘটনা সঠিক নয়। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।









