এই পোস্ট দেয়ার পর পর চারিদিকে শোরগোল পড়ে। এর কিছু সময় পর জামালগঞ্জ ইউএনও তার ফেসবুক পোস্ট এ জানান এসিল্যান্ড এর ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে। পরে এসিল্যান্ড এর স্ত্রী পোস্ট ডিলিট করেন।
শুক্রবার জামালগঞ্জ উপজেলার ইউএনও শিল্পী রাণী মোদকের মেয়ের জন্মদিনে সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন এসিল্যান্ড । সেখানে ইউএনও মেয়ের জন্মদিনের কেক কাটার পর থেকেই তিনি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের গায়ে হাত তোলেন তিনি। পরে তাকে বুঝিয়ে বাসায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তিনি পানির গ্লাস ভাঙচুর করেন এবং দৌড়ে নিচে নেমে বাসার সামনে থাকা দুই বাচ্চাকেও মারধর করেন।
এ ঘটনার মধ্যেই তিনি ফেসবুকে ওই দুটি পোস্ট করেন। যার একটি ছিল- মৃত্যুর জন্য দায়ী শিল্পী রাণী মোদক ও অন্যটি আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার।
এমন পরিস্থিতিতে ইউএনও জামালগঞ্জ থানার ওসিকে ফোন করলে পুলিশ এসে এসিল্যান্ডকে রুমে নিয়ে যায় এবং সেখানেই ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে রাখা হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেটে পাঠানো হয়। প্রথমে মাউন্ট এডোরা হসপিটাল ও পরে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসিল্যান্ডকে ঢাকায় রেফার্ড করেন।
জামালগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদক বলেন, “সে তার স্ত্রীকে নিয়ে গতকাল শুক্রবার রাতে আমার মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এসেছিল। কেক কাটার পর থেকেই সে অস্বাভাবিক আচরণ করে। সে আমার আনসার সদস্যদের গায়ে হাত তুলে, তারপর বাচ্চাদেরও মারধর করেছে। তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, তাকে ডাক্তার প্রেসক্রাইব করা দুটি ঘুমের ইনজেকশন দিতে হয় কিন্তু এসব ওষুধ জামালগঞ্জের কোনো ফার্মেসিতে পাওয়া যায় না। তাছাড়া তার স্ত্রী গর্ভবতী হাওয়ায় আমাদের চিন্তা আরো বেড়ে যায়।”
তিনি আরো বলেন, “তখন তার বাসায় গিয়ে দেখি সে গ্লাস ভেঙেছে, অদ্ভুত আচরণ করছে। তখন বাধ্য হয়ে পুলিশ ও হাসপাতালের আরএমওকে ফোন করে বাসায় নিয়ে এসে তার প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করি।”
ইউএনও বলেন, “আমি আজ সকালে তার বাবার সঙ্গে কথা বলেছি, তার বাবা আমাকে বলেছেন, কয়েক ঘণ্টা ঘুমালে ঠিক হয়ে যাবে। আমি তার আগের কর্মস্থলেও খোঁজ নিয়ে জেনেছি- তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। সে এমন পোস্ট কেন করল আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার মেয়ের জন্মদিনের কেক খেয়েছে, সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করেছে তারপর হঠাৎ কি হয়ে গেল আমি বুঝলাম না।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী ও একই কথা বলেছেন। তিনি জানান দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মানসিক ভাবে অসুস্থ। মাঝে মাঝে এমন আচরণ করেন। পরে ঘুম হলে ঠিক হয়ে যায় তার বাবা ও আমাদের জানিয়েছেন।









