‘ভিসি হওয়াতে আমি কোনো আত্মগৌরব অনুভব করি না, বরং এটি একটি কঠিন দায়িত্বভার। সকলের সহযোগিতায় ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে চাই’ এমন প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও নাট্যব্যক্তিত্ব ড. ইসরাফিল শাহীন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে ঠাকুরগাঁও জেলায় শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মেডিকেল কলেজ স্থাপন, বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ এবং ইপিজেড গঠনের পরিকল্পনা এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আবেগঘন ও গানের ভাষায় বলেন, এই প্রভাত ঠাকুরগাঁওবাসীর জীবনের অন্ধকার ঘোচাবে। সেই সঙ্গে সমগ্র দেশেই ছড়িয়ে যাবে তিমির হননের গান।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও এখন একটি ‘নতুন সকালের’ দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সেই স্বপ্ন পূরণে বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভূয়সী প্রশংসা করেন ড. ইসরাফিল শাহীন। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে মন্ত্রীর রয়েছে গভীর আত্মিক সম্পর্ক এবং তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই এ অঞ্চলে উন্নয়নের নতুন ধারা সূচিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তিনি আমার ওপর আস্থা রেখেছেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ করার জন্য। সম্ভবত তাঁরই পরামর্শে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।’
ড. শাহীন জানান, গত ৭ মে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রাথমিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সীমিত পরিসরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং ঠাকুরগাঁওয়ের সম্মান ও পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান হলেও এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেরও সম্পর্ক রয়েছে। এর ভাবমূর্তির ওপর নির্ভর করবে দেশ-বিদেশে এর সুনাম।’
এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা, মতামত ও পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সুনাম রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। সভায় তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি এই বিশ্ববিদ্যালয় আপনাদের। একে গড়ে তোলার দায়িত্বও আপনাদের।’
সবশেষে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ ও ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে বহুদলীয় গণতন্ত্রের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মতবিনিময় সভায় ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. লুৎফর রহমান মিঠু, সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল লতিফ, মসিউর রহমানসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।









