যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবকে অনেকটা ‘আত্মসমর্পণের’ শামিল বলে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। দাবি, মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে যুদ্ধের কারণে ক্ষতিপূরণ, হরমুজের ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে।
এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রস্তাবে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিক্রিয়া ছিল ‘দায়িত্বশীল ও উদার’।
সোমবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-কে দেওয়া বক্তব্যে বাঘেই বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো ছাড় চায়নি, বরং যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে ‘সমুদ্রপথে আক্রমণ’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
মধ্যস্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যোগাযোগে বিভিন্ন দেশ যুক্ত থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে ‘পাকিস্তান’।
পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি তিনি জানান, কাতারসহ আরও কিছু দেশও এই প্রক্রিয়ায় মতামত দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পক্ষকে নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। একই সঙ্গে ইরান প্রয়োজন হলে ‘লড়াই’ করবে, আবার সুযোগ পেলে কূটনীতির পথও বেছে নেবে।
এর আগে, রোববার (১০ মে) ইরান পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব পাঠায়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার জবাবে, ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন, যার মাধ্যমে কূটনৈতিকভাবে সমাধানের পথ তৈরি হয়।









