ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার সরকারি হলরুম এখন পরিণত হয়েছে রাজমিস্ত্রিদের অস্থায়ী বসতঘরে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এই স্থাপনাটি ব্যক্তিগত আবাসন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। হলরুমের ভেতরেই রান্না, খাওয়া ও রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গত(১৭ মে ২০২৬)রবিবার দিবাগত রাতে সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়,হলরুমের ভিতরে রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিকরা অবস্থান করছেন। সেখানে রান্নার চুলা,বিছানা ও দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা সামগ্রী দেখা গেছে।এছাড়াও হলরুমের ভিতরে থাকা চেয়ার ও সোফা দিয়ে রাত্রি যাপনের জন্য খাট হিসেবে ব্যবহার করছে।সরকারি স্থাপনার এমন অপব্যবহার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে ভিতরে অবস্থানরত শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদেকে এখানে কাজের জন্য ঠিকাদার ইউএনও অফিসের রফিক স্যারের ম্যানেজার মামুন নিয়ে আসছে এবং এই ঠিকাদার রফিক স্যার আমাদের এখানে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে ইউএনও অফিসের সিএ মো:রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে,প্রয়োজন না থাকলেও ফ্যান ও লাইট চালু রাখা হচ্ছে। এতে সরকারের বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে এবং বাড়ছে সরকারি ব্যয়। সচেতন মহল বলছে, যেখানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে, সেখানে সরকারি ভবনে এমন অব্যবস্থাপনা দুঃখজনক।
হল রুমের ভিতরে অবস্থানরত শ্রমিকদের বাড়ি ইউএনও অফিসের সিএ রফিকুল ইসলামের এলাকায় ফরিদপুর জেলার সালথায়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান,সরকারি হলরুম সাধারণত সভা-সেমিনার ও প্রশাসনিক কাজে ব্যবহারের জন্য নির্মিত। কিন্তু বর্তমানে সেটি শ্রমিকদের আবাসস্থলে পরিণত হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রয়োজনের সময় হলরুম ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান এর কাছে মোবাইল ফোনে কল ও খুদেবার্তার মাধ্যমে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো উত্তর দেননি।
এমন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত হলরুমটি দখলমুক্ত করে সরকারি কাজে ব্যবহারের উপযোগী করা হোক এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।









