বুধবার | ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ | ২ বৈশাখ, ১৪৩৩

হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র বিক্রেতা হেলাল ৩ দিনের রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র বিক্রেতা ‘হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং’র মালিক মাজেদুল হক ওরফে হেলালকে তিনদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৫ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ দেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তবে আসামি পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আসামির কোনো বক্তব্য আছে কিনা আদালত জানতে চাইলে তার কোনো বক্তব্য নেই বলে জানান তিনি। পরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আসামির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

এই আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামি হেলাল চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং দোকানের মালিক।

আবেদনে বলা হয়, হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র (পিস্তল) নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয়। মাইক্রো অ্যানালাইসিস পরীক্ষায় পিস্তলের সিরিয়াল নম্বর উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ২০১৭ সালে আমদানি করা পিস্তলটি রাজধানীর পুরানা পল্টনের এম আইচ আর্মস কোং নামের অস্ত্রের দোকান থেকে চকবাজারের ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্স এর কাছে বিক্রি করা হয়। পরে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই দোকান থেকে চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং-এর কাছে বিক্রি করা হয়।

তদন্ত করে জানা যায় যে, সেই দোকানের মালিক মাজেদুল হক হেলাল, তার লাইসেন্স ৪৫/৪৮। লাইসেন্সটি আগে তার বাবা হামিদুল হকের নামে ছিল। পরে ২০০০ সালে লাইসেন্সটি তার নামে করে নেয়। তার লাইসেন্সটি গত ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নবায়ন করা ছিল। পরে আর নবায়ন হয়নি। লাইসেন্স নবায়ন না করেই ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্স দোকান থেকে অস্ত্রটি কেনেন হেলাল। সেই অস্ত্রটি হেলালের কাছ থেকে কীভাবে আসামিদের গেল সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেন শহীদ ওসমান হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওইদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতিকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেওল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার পাঠানো হয়।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

এদিকে হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত, দুষ্কর্মে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেন হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওইদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD